স্প্লিন্টারে ক্ষতবিক্ষত মাহাবুবার খোঁজ রাখে না কেউ

অনেক তো হলো, আর বেশিদিন হয়তো বাঁচব না। শেষ ইচ্ছা হিসেবে একটাই প্রার্থনা গ্রেনেড হামলার মূল হোতা তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে এনে সাজা কার্যকর করা হোক। তাহলে গ্রেনেড হামলায় আমরা যারা আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছি এবং নিহত ২৪ জনের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গিয়ে গ্রেনেড হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেত্রী মাহাবুবা পারভিন।

তিনি বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে সাভারের কোনো আওয়ামী লীগ কিংবা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আমার খোঁজখবর নেয়নি। অথচ সাভারে এখন হাজার হাজার নেতার উৎপত্তি হয়েছে। তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে জিরো থেকে কোটিপতি হয়ে গেছে।’ 

মাহাবুবা আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করব এখন আমি আর পারছি না, যেহেতু মাঝে মধ্যেই আমাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয় এবং আমি ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি হিসেবে আমার যে কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ সেখানে যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমার মতো দুঃখিনীকে দেখার কেউ নাই। গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর যা কিছু পেয়েছি সব তার কাছ থেকেই পেয়েছি। তার কারণেই আজও আমরা বেঁচে আছি।’

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় অংশগ্রহণ করেন মাহাবুবা পারভীন। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে ঠিক যখনই জয় বাংলা বলে শ্লোগান দিবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রাণঘাতি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে থাকে। চলে গুলিবর্ষণও। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে চালানো হামলায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৬ জন নিহত হন। আহত হয় কয়েকশ মানুষ। আহতদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন শরীরে অসংখ্য গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তারাও। অনেকেই আবার চিরদিনের মতো পঙ্গু হয়ে গেছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মাহাবুবা শরীরে ১৮০০ স্প্লিন্টার নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার বাম হাত এখনও অচল, চোখে কম দেখেন, ডান কানে কম শোনেন, তার শরীরের চামড়ার ভেতরে ঘা হয়ে গেছে। কষ্ট হলেও মাহাবুবা পারভীন এখনও মাঝে মধ্যেই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।