চলে গেলেন পাকিস্তানের 'বুলবুল' নায়ারা নুর

মারা গেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি গায়িকা নায়ারা নুর। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানায়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর করাচিতে নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় গায়িকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। রবিবার বিকেল ৪টায় তাকে কবরস্থ করা হয় বলে তার পরিবার সংবাদমাধ্যমকে জানায়। 

গজল গায়িকা হিসাবে পরিচিতি ছিল তার। সুরেলা কণ্ঠের জন্য পাকিস্তানের 'বুলবুল' বলা হতো নায়ারাকে।

১৯৫০ সালে ৩ নভেম্বর আসামের গুয়াহাটিতে জন্ম হয় নায়ারা নুরের। ছোট থেকেই বেগম আখতারের গজল, কানন দেবীর ভজন শুনে বড় হন। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। তবে নায়ারার বাবা ছিলেন 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ'-এর সক্রিয় সদস্য। ১৯৫৭ সালে নায়ারার বয়স যখন মাত্র ৭, তখন তিনি তার মা এবং ভাইবোনেদের সঙ্গে ভারত থেকে পাকিস্তানে চলে যান। যদিও গায়িকার বাবা তার পরিবারের স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত আসামেই ছিলেন।

নায়ারা নুরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টুইটারে তিনি লেখেন, 'নায়ারা নুর যেটাই গেয়েছেন, সেটাই পূর্ণতা পেয়েছে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবে না। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।'

জানা যায়, সঙ্গীত নিয়ে নায়ারা নুরের কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না। তবে লাহোরের ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় কলেজের এক অধ্যাপক তাকে আবিষ্কার করেন। এরপরই তাকে লাহোরের ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টস-এর এক অনুষ্ঠানে গাইতে বলা হয়। ১৯৭১ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের একটি ধারাবাহিকের জন্য গান গেয়েছিলেন নায়ারা। পরবর্তীকালে 'ঘরানা', 'তানসেন'-এর মতো ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের খ্যাতনামা গজল গায়ক মেহেদী হাসান, প্লে ব্যাক সিঙ্গার আহমেদ রুশদির সঙ্গে গেয়েছিলেন নায়ারা। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পেয়েছিলেন 'প্রাইড অব পারফরম্যান্স' পুরস্কার। তিনবার স্বর্ণপদকও পেয়েছিলেন তিনি। সূত্র : ডন