গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প ও মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে ৩৬৪ জন। এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে প্রকল্প কাজের নিরাপত্তায় অবহেলাজনিত দুর্ঘটনার কারণে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের মধ্য থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পথে প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট যানজটেই প্রাণ হারিয়েছে ১২৬ জন।
বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে গত ৯ বছরে প্রকল্প এলাকায় ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং আহত হয়েছে ২৭৮ জন। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া মেট্রোরেল প্রকল্প এলাকায় প্রাণ গেছে ৩ জনের এবং আহত হয়েছে ৮৬ জন।
রবিবার বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য রোড এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরটি প্রকল্পের সীমাহীন অব্যবস্থাপনা আর ঠিকাদারদের দায়িত্বে অবহেলা, প্রকল্প কর্মকর্তাদের অদক্ষতায় গত ৯ বছরে ২৯ হাজার ৫১২ কর্মঘণ্টা অপচয় হয়েছে। এই ৯ বছরে অসহনীয় দূষণের কারণে অসুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৫৬২ জন। এ প্রকল্পের অব্যবস্থাপনায় আনুমানিক অর্থনৈতিক ক্ষতি ৪ হাজার ৮২১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে গত ৬ বছরে ১১ হাজার ৮৬০ কর্মঘণ্টা অপচয় হয়েছে। প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট যানজটে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ৫৪ রোগী দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের কারণে অসুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭৫১ জন। এ প্রকল্পের অব্যবস্থাপনায় আনুমানিক অর্থনৈতিক ক্ষতি ২ হাজার ১৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে উদ্বোধন করলেও মূলত কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুচারুরূপে চলতি বছরের মধ্যে শেষ না করা হয় তাহলে আগামী বছর বিআরটির সঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পটি হবে ব্যস্ততম ঢাকায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। চলমান প্রকল্পের কারণেও সড়কে সাধারণ মানুষের মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে।’
সেভ দ্য রোডের প্রতিবেদনে মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্প চলাকালে বিমানবন্দর, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, শাহবাগ, মহাখালী, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, শ্যামলী, গাবতলী, সাতরাস্তার মোড়, মগবাজার, গুলিস্তান, পুরান ঢাকা, নিউমার্কেট, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সার্বক্ষণিক সতর্কতার জন্য বিশেষ টিম নিয়োগের দাবি জানানো হয়। রাজধানীতে ৩ কিলোমিটার পরপর ‘পুলিশ বুথ’ স্থাপনের মাধ্যমে ধর্ষণ-খুন-নৈরাজ্য-ছিনতাই প্রতিহত করা সম্ভব বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।