নরসিংদী স্টেশনে তরুণীকে হেনস্তায় অভিযুক্ত নারীর জামিন স্থগিত

পোশাকের জন্য নরসিংদী রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক তরুণীকে হেনস্তা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলার আসামি মার্জিয়া আক্তার ওরফে শিলাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (২১ আগস্ট) চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

এর আগে,গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ মার্জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। সেদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে আদালত বলেছিলেন, সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কি না?

পরে রাষ্ট্রপক্ষ মার্জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে, যা রোববার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। মার্জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহুরুল ইসলাম ও মো. কামাল হোসেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ মে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন এক তরুণী ও তার দুই বন্ধু। এরই মধ্যে জিন্স ও টপস পরা নিয়ে স্টেশনে অপেক্ষারত এক নারীর সঙ্গে ওই তরুণীর বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে হেনস্তা করেন ওই নারী। তরুণীর সঙ্গে থাকা দুই তরুণ প্রতিবাদ করলে পাশ থেকে কয়েকজন যুবক এসে তাদের মারধর করেন।

২০ মে রাতে তরুণীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় ইসমাইল মিয়া নাম এক ব্যক্তিকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে ভৈরব রেলওয়ে থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরদিন বিকালে গ্রেফতার দেখিয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে তোলে পুলিশ। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানো ও এ ঘটনায় মামলা করার নির্দেশ দেন।

ওই রাতেই ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলায় মো. ইসমাইল ও শিলার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন নারী ও ৮-১০ জন পুরুষকে আসামি করা হয়।