ফাইনাল খেলা কঠিন তবে ...

‘এক্সপেরিমেন্টাল’ এশিয়া কাপ। বাংলাদেশের জন্য এবারের আসর একেবারে ভিন্ন অভিযান। বলা হচ্ছে অনেক নতুন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এই আসর থেকে করে দেখা হবে। এই দেখার ভিড়ে টুর্নামেন্টে সত্যিকারের কোনো লক্ষ্যই নেই বাংলাদেশের! কাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টুর্নামেন্ট-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এশিয়া কাপ নিয়ে এমনটাই বললেন। তার মুখে সর্বোচ্চ এলো ‘সুপার ফোরে খেলা উচিত’। কদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলা খুব কঠিন। তবে কোন দল কোনো টুর্নামেন্টে গিয়ে শিরোপাটা চায় না! সাকিবও চান তবে সেটা মনে মনে। শিরোপা জয়ের আগে যে অনেক তবে-কিন্তু আছে। লক্ষ্য বলার আগে তাই সেই তবে কিন্তুর হিসাব মেলাতে চান সাকিব।

এশিয়া কাপের হিসাব ধরলে বাংলাদেশ অন্যতম ফেভারিট। গত চারবারের তিনবারই ফাইনাল খেলেছে দলটি। ২০১২ ও ২০১৪-তে নিজেদের মাঠে আর ২০১৮-তে দুবাইতে। কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশের প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডে-তে। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর বলে এশিয়া কাপের ফরম্যাটও বদলে গেছে। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ এমনিতেই দুর্বল। এশিয়ার দলগুলোর সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যটাও জানেন সাকিব। ২০১৮-তে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলা টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। গত চারবারে তিনবার ফাইনালে গিয়েও তাই ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন না সাকিব।

গত বিশ্বকাপে অন্তত সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টুর্নামেন্টে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায়ের হুমকি জাগে। এরপর সমালোচনায় পড়তে হয় ক্রিকেটারদেরই। সাকিব সেই সময়টাকে সামনে এনে এবার আর সেমিফাইনাল-ফাইনালের কথা বললেন না, ‘আমাদের সুপার ফোরে খেলা উচিত, কিন্তু আমি মনে করি খুব বড় টার্গেট নিয়ে গেলে যদি তা করতে না পারি তাহলে আপনারাই বলেন যে খুব বড় কথা বলে যাই কিন্তু করতে পারি না। আমার মনে হয় এটা আমাদের বিষয়, ড্রেসিংরুমে থাকবে এবং সেখানেই থাক।’   

এমন অরও কিছু গোপন রেখেছেন সাকিব। নতুন পরিকল্পনার মধ্যে নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই বোঝা যায়নি। তাও প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে তা স্পষ্ট হয়। নতুন টেকনিকাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামের সঙ্গে কী আলাপ করেছেন তাও বলেননি। তবে আমূল পরিবর্তনের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করলেন। শ্রীরামের সঙ্গে কাল প্রথমবার দলীয় মিটিং করেছেন সাকিবরা। আরও তিন-চার সেশন করবেন বলে জানান। এরপর ম্যাচ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আর এই সব কিছুই হবে নতুনত্বের চাদরে। যেখানে থাকছেন না রাসেল ডমিঙ্গো। তবুও ভয় আছে। সাকিব জানেন এই আসরেও ব্যর্থ হলে আবার এই নতুন শুরুও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই জানালেন এই নতুন শুরুর শেষ কবে হবে তা তার অজানা, ‘কখনো না কখনো কোনো কিছু শুরু করতেই হবে। আরও পরে যদি হতো সেটা থেকে তো এখন হওয়া ভালো। আর এটা আমরা শেষ বারের মতো শুনছি কি না সেটাও একটা প্রশ্ন। এরপরও আবার শুনতে হতে পারে, আমরা নতুন করে আবার শুরু করতে যাচ্ছি। এই শুরুর শেষ আছে কি না আমি জানি না। আমরা যদি চেষ্টা না করি কখন জানতে পারব। চেষ্টা করাটাও জরুরি।’

নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুশফিককে আবার টি-টেয়েন্টির কিপিংয়ে ফিরিয়ে এনেছেন সাকিব। যেখান থেকে এই ক্রিকেটারকে সরিয়ে দেন ডমিঙ্গো। একইসঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে গত কিছুদিনে এ দুই ক্রিকেটারের থাকা নিয়ে যে প্রশ্ন তাও উড়িয়ে দিলেন অধিনায়ক, ‘দুজন (মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ) খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই পরিকল্পনার। উনারা এটা সম্পর্কে অবগত, উনারা জানে দায়িত্বটা কী, জানে উনাদের চ্যালেঞ্জ কী কী। উইকেটকিপিং যেটা হচ্ছে, উনি (মুশফিক) এটা করলে আমার জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এটার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে সময়টা খুব কম থাকে। যেটা হয়, ফিল্ডিংয়ের অ্যাঙ্গেলগুলো উনি খুব সহজে বদলাতে পারে। আমার কাছে শোনারও দরকার নেই। আমি অন্য একটা-দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারব। কারণ আমার পক্ষে এগারোটা খেলোয়াড়কে সবসময় দেখা সম্ভব না। উনার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলে এগুলো সহজ হয়ে যায়।’

সাকিবের পরিকল্পনাটা লম্বা সময়ের। তাই নতুন পরিকল্পনায় এশিয়া কাপেই কিছু করে ফেলবেন বলে বিশ্বাস করেন না। ভারতকে উদাহরণ টেনে জানালেন কোহলি-রোহিতদের মতো সব আসরে ফেভারিট হওয়ার জায়গায় যেতে চান। এক আসর জিতে পরে আবার আরেক আসরে ভরাডুবি দেখতে চান না, ‘দেখুন আমরা যদি এখন শুরু করি তাহলে হয়তো ২০২৪-এ ভালো দল হয়ে বিশ্বকাপে যাব। কিন্তু এই এশিয়া কাপ জিতলাম আর পরে নিউজিল্যান্ডে ও অস্ট্রেলিয়ায় একেবারে খারাপ করলাম সেটা তো ভালো না। ভারত কিন্তু ২০০৭ এর পর কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। কিন্তু ওরা প্রতি আসরেই ফেভারিট। আমি ওই জায়গাটাতে যেতে চাই।’

নতুন কনসালটেন্ট, নতুন মানসিকতা নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে দলকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান সাকিব। যে ফরম্যাটে বাংলাদেশ বরাবরই খাবি খাচ্ছে। সাকিবের হাত ধরে উঠে আসার শুরুটা হোক এ এশিয়া কাপ থেকেই।