গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে দত্তপাড়া কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে একজন আহত হয়। অন্যদিকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) আবু সায়েম নয়ন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমন মাহমুদ পাটোয়ারী ওরফে তানন (৩৩) টঙ্গীর বড়দেওড়া ফকির মার্কেট এলাকার ফজলুল হক পাটোয়ারীর ছেলে। তিনি বড়দেওড়া এলাকায় ডিমের পাইকারি ব্যবসা করতেন।
গ্রেপ্তাররা হলো টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (৩৮), এরশাদনগর এলাকার গেদু মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেন (২২), দত্তপাড়া জহির মার্কেট এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২০) ও দত্তপাড়া সিনিয়র মাদ্রাসা এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে সাকিব (২২)।
পুলিশ কর্মকর্তা আবু সায়েম নয়ন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আউচপাড়া মেরিট স্কুলের সামনে ২০-২৫ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সুমন মাহমুদ পাটোয়ারী ওরফে তাননকে হত্যা করে। এ সময় আহত হন সালাউদ্দিন তুহিন (২৬) নামে এক যুবক। এ ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার ৪টি এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুটি দল কাজ শুরু করে। রাতভর টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ের মূলহোতা ইসমাইলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মোবারককে নিয়ে দত্তপাড়া কসাইবাড়ি রেলগেটে তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সহযোগীরা মোবারককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মোবারককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২টি ছোরা ও ১টি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের ৩ সদস্য আহত হন।