ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, যে কাজ পুলিশ বাহিনীকে বিব্রত করে তেমন কাজ করা যাবে না। সেই সঙ্গে তিনি থানা হাজতে আত্মহত্যার সহায়ক কোনো কিছু যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেন।
আজ বুধবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সদস্যদের এমন নির্দেশনা দেন তিনি। সভা শেষে ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা হাজতে রুম্মন শেখ (২৭) নামে এক যুবক 'আত্মহত্যা' করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ওই ভ্যানচালক শুক্রবার মাঝরাতের পর থানা হাজতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। যেটির একটি সিসিটিভি ভিভিও স্বজনদের দেখানো হয়। তবে স্বজনদের দাবি ওই ভিডিওতে আত্মহত্যার কোনো কিছু নেই। রুম্মন আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ নিয়ে হাতিরঝিল থানার সামনে বিক্ষোভ করেন মৃতের স্বজন ও স্থানীয়রা। স্বজনরা মরদেহও গ্রহণ করতে চাননি। আর এ ঘটনায় ওই থানার দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানায় পুলিশ।
এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার ডিএমপি কমিশনার থানায় আত্মহত্যার সহায়ক কোনো কিছু যাতে না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন। ভালো কাজ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন এবং পুলিশিং করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দেবে না। তবে রাজনীতির নামে যারা আগুন সন্ত্রাস বা গাড়ি ভাঙচুর করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মামলা তদন্ত, মাদক উদ্ধার ও মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এসব কাজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি করার নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় ঢাকা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার দেন ডিএমপি কমিশনার। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার, মো. আসাদুজ্জামান, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।