ডিসেম্বরেও শেষ হচ্ছে না সংস্কারকাজ

প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছর আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ। এ বছর ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে অনেক কারণেই সময়মতো শেষ হবে না সংস্কারকাজ। তাই স্টেডিয়ামটি আগামী মৌসুমের শুরু থেকে ব্যবহার করতে পারছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তারা অবশ্য আশাবাদী ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠ ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ব্যাপারে। তবে কেবল মাঠ প্রস্তুত হলেই তো চলবে না। সংশ্লিষ্ট আরও কিছু অবকাঠামোও প্রস্তুত হতে হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে ড্রেসিং রুম, মিডিয়া সেন্টারের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগুলোর সংস্কারকাজ শেষ করা সম্ভব নয়।

মাঠ উন্নয়ন, গ্যালারির ওপর শেড নির্মাণ, গ্যালারিতে চেয়ার স্থাপন, ড্রেসিং রুম আধুনিকায়ন, নতুন ফ্লাডলাইট স্থাপন, নতুন অ্যাথলেটিক ট্র্যাক স্থাপন, টিকিট কাউন্টার, ডোট টেস্ট রুম, মেডিকেল রুম, ভিআইপি বক্স, প্রেসিডেন্ট বক্স, টয়লেট, সাব-স্টেশন, এসি ও বৈদ্যুতিক প্যানেল প্রতিস্থাপনের মতো কাজ হচ্ছে স্টেডিয়ামে। দৃশ্যত কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা না গেলেও পশ্চিম গ্যালারির ওপর শেড নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। তবে ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার পূর্বশর্ত ড্রেসিং রুম, মিডিয়া সেন্টারের মতো অবকাঠামোগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের কাজগুলো এখনো শুরুই হয়নি। তাছাড়া ফ্লাডলাইট নিয়ে হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মূল প্রকল্পে আগের ফ্লাডলাইটের বাল্ব প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। তবে বাফুফে অনুরোধ করেছে আধুনিক এলইডি স্থাপন করার। তাই এ নিয়ে টেন্ডারই হয়নি। তবে মাঠের পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল মাঠে নতুন ঘাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফের পক্ষ থেকে।

অতীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠের ঘাস নিয়ে ওজর-আপত্তির শেষ ছিল না বাইরে থেকে খেলতে আসা দলগুলোর। নিম্নমানের ঘাসে স্বাভাবিক ফুটবল ব্যাহত হতো। মাঠ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবশ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফে সেই সনাতনী পথেই হাঁটছে। বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ না এনে তারা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে। দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন মাঠ নিয়ে কাজ করা ইয়াহিয়া মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত করতে তিন মাস সময়ের কথা জানিয়েছেন। ফিফা ও এএফসির পরামর্শ মেনে মাঠে বারমুডা ও বেঙ্গল টাইগার ঘাস বসানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ ডিসেম্বর নাগাদ এখানে ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে আশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘মাঠটা পুরোপুরি প্রস্তুত হতে তিন মাস সময় লাগবে। এখন কাজ ধরলে ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠ খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। আমরা বলেছি (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে) আগামী ফুটবল মৌসুমে যাতে মাঠটা ব্যবহার করা যায়, তার জন্য মাঠ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, দুটি ড্রেসিং রুম ও মিডিয়া সেন্টারের সুযোগ সুবিধা করে দেওয়ার জন্য। যদি ঠিকঠাক কাজ হয় আশা করছি তিন মাস সময়ে মাঠ ব্যবহার করা সম্ভব। অন্যান্য কাজ পরে শেষ হলেও চলবে।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সারওয়ার জাহান অবশ্য ডিসেম্বরের মধ্যে ফুটবল খেলার উপযোগী করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন, ‘মাঠ প্রস্তুতের কাজ আরও দুই মাস আগে শুরুর জন্য বাফুফে বলা হয়েছিল। আজ তারা একজন বিশেষজ্ঞকে পাঠিয়েছিল মাঠের কাজ শুরুর জন্য। তাছাড়া এবারের বর্ষায় বৃষ্টি সেভাবে না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে ঘাস গজাচ্ছে না। তাই সেখানে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে।’ সারওয়ার আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে সব কাজ শেষ করার আশা ব্যক্ত করেছেন ‘এখন পশ্চিম গ্যালারির ওপর শেডের কাজ চলছে। এরপর মিডিয়া সেন্টারের কাজ ধরা হবে। পূর্ব গ্যালারিতে একই রকম শেড বসানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা হলে প্রকল্প ব্যয় ও সময়সীমা বাড়বে। তাছাড়া ফ্লাডলাইড স্থাপনের ব্যপারেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গ্যালারিতে বসতে যাচ্ছে লোকাল চেয়ার। এর আগে অবশ্য বিদেশি চেয়ার বসানোর ব্যাপারে টেন্ডারও হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটা বাতিল হয়। নতুন করে স্থানীয় চেয়ার বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। লোকাল চেয়ার ও ভিআইপি চেয়ার মিলিয়ে স্টেডিয়ামে ধারণক্ষমতা দাঁড়াবে ২৩ হাজারের মতো।’ সারওয়ার জানান, মাঠের চারপাশ জুড়ে অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বসানোর কাজ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ধরা হবে। জার্মানির বিখ্যাত কোম্পানি পলিটনের ট্র্যাক বসতে যাচ্ছে সেখানে।

স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে ব্যাপক সংস্কারকাজ ধরা হলেও বাইরের অংশে সেভাবে কাজ হচ্ছে না। স্টেডিয়ামজুড়ে কয়েকশ দোকান নিয়ে বহু বছর ধরে রমরমা দেশের অন্যতম বড় ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদির বাজার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ারও কোনো উদ্যোগ কখনই নেয়নি। ফলে মানুষের ভিড়, নোংরা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এলাকাজুড়ে, যা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে লজ্জা।