মোংলা বন্দর চ্যানেলের গভীরতা বাড়ানোর জন্য পশুর নদ খনন করে খুলনার দাকোপের বাণীশান্তার তিন ফসলি জমিতে বালি ফেলে শস্য উৎপাদন ধ্বংস করার ভুল সিদ্ধান্তের জন্য বন্দরের চেয়ারম্যানের অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলেন, পশুর নদের পাড়ের বাণীশান্তা ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস কৃষি। তবে মোংলা বন্দর চ্যানেলের গভীরতা বাড়ানোর জন্য পশুর নদ খনন করে বালু ফেলতে তাদের সেই আবাদি জমি হুকুমদখল করা হয়েছে। জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় এলাকার মানুষ তাদের জমিতে মাটি ফেলতে দিতে রাজি নয়। কিন্তু মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মিথ্যাচার করে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে যাচ্ছেন এবং শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকারীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে খুলনার দাকোপের বাণীশান্তার তিন ফসলি কৃষিজমিতে বালি মাটি ফেলে শস্য উৎপাদন ধ্বংস করার ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৯টি মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন আয়োজিত নাগরিক সভায় তারা এমন দাবি করেন। মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘জনস্বার্থ বিবেচনা না করে নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই উন্নয়ন আমাদের বিপদে ফেলছে, বিরক্ত করছে। জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত ও অসদাচরণের জন্য মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসার অপসারণ ও গ্রেপ্তার দাবি করছি।’
‘নিজেরা করি’ সংগঠনের সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, ‘দেখানোর জন্য উন্নয়ন করা হলে সেটি উন্নয়ন নয়। জনগণের ক্ষতি করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে, সেটি জনস্বার্থবিরোধী এবং এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মূল প্রবন্ধে বলেন, ‘মাটি ফেলার জন্য প্রস্তাবিত জমিতে শুধু শস্য চাষই ব্যাহত হবে তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে এলাকার প্রান্তিক মানুষদের জীবন-জীবিকার অন্যতম সংস্থান পুকুর, জলাশয়, মৎস্যসম্পদ ও গবাদি প্রাণী।’