বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এতোদিন উন্নয়নের নামে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে আসছিল বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।
তিনি বলেন, সরকারের সেই উন্নয়ন এখন লোডশেডিংয়ে চলছে। জনগণের ক্রয় ক্ষমতার কথা বিবেচনা না করেই নিত্যপণ্যের দাম জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি করেছে। আবারও সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৭ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস করে দেশে এখন চলছে ভয়ঙ্কর এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখন চরম সঙ্কটাপন্ন। অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগষ্ট) বিকেলে নগরীর বিআরটিসি মোড়ে এনায়েত বাজার ওয়ার্ড বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ অসহনীয় লোডশেডিং এবং ভোলায় গুলিতে নূরে আলম ও আবদুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিআরটিসি মোড় থেকে শুরু করে বাটালী রোড, এনায়েত বাজার মোড়, জুবলী রোড হয়ে তিন পুল মোড়ে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দেশে সর্বগ্রাসী সংকটের মূলে সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, ও দুঃশাসন দায়ী। সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ। এখন নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে লাগামহীন মিথ্যাচার করছে। তিনি ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব স্বীকার করে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন অন্যথায় শেচনীয় পরিস্থিতির জন্য তাদেরকেই দায়ী থাকতে হবে।
সমাবেশের প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, মানুষ এখন চরম অর্থনৈতিক সংকটে। তাদের আয় রোজগার সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। বেকারত্বের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গ্রাম শহরে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে, চুরি ডাকাতি হচ্ছে। মানুষ আজ অসহায়। সাত দিনের বাজার করতে গিয়ে দাম শুনে বিচলিত হয়ে তিন দিনের বাজারও করতে পারছে না। সার, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষক ধান উৎপাদন নিয়ে দিশেহারা।
এনায়েত বাজার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলি আব্বাস খাঁনের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, আবদুল মান্নান, নগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।