আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকের এই রাত আমার জন্য দারুণ সম্মানের। আজ থেকে ৩৭ বছর আগে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস থেকে আমি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করি। সেদিন সম্পর্কে আমি অনেক কিছুই মনে করতে পারি। আমি মনে করতে পারি সেদিন আমার তীব্র মাথাব্যথা ছিল, আগের রাতে অনুষ্ঠানের দরুন। আমি মনে করতে পারি আমার একজন ভালো বান্ধবী ছিল, যার সঙ্গে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। এবং সেদিন আমি নৌবাহিনীতে কমিশনড হই। কিন্তু ৩৭ বছর পরে আজ আমার মনে নেই কে সেদিনের উদ্বোধনী বক্তা কারা ছিলেন বা কী তারা বলেছিলেন। তাই আমার চেষ্টা থাকবে আমি আমার বক্তৃতা যদি স্মরণীয় নাও করতে পারি বক্তৃতাটি অন্তত ছোট যেন করতে পারি।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস ইন অস্টিন) সে্লাগান হলো, এখানে যা শুরু হয় তা বিশ্বকে বদলে দেয়। আজ রাতে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস (ইউটি) থেকে ৮ হাজার শিক্ষার্থী বা ৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হবে। আস্ক ডট কম বলছে, একজন গড়পড়তা আমেরিকান সারাজীবনে ১০ হাজার মানুষের দেখা পায়। কিন্তু আপনারা প্রত্যেকে যদি ১০ জনের জীবনকে বদলে দিতে পারেন, তাদের প্রত্যেকে যদি আরও ১০ জনের জীবন বদলে দিতে পারে এভাবে ১২৫ বছরে ২০১৪ সালে স্নাতক হওয়া আপনারাই ৮০০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারবেন, ৮০০ মিলিয়ন।
আপনি যদি মনে করেন, ১০ জন মানুষের জীবন চিরতরে বদলে যাওয়া ভীষণ কঠিন তাহলে আমি বলব আপনি ভুল। আমি মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত বদলে যেতে দেখেছি। আমি এটা দেখেছি আফগানিস্তানে ও ইরাকে। এক তরুণ আর্মি অফিসার ডানে যাওয়ার বদলে বামে গেল এবং একটি অন্তর্ঘাত থেকে রক্ষা পেয়ে তার সঙ্গের ১০ জন সৈন্যের জীবন বেঁচে গেল। আপনি যদি ভেবে দেখেন তাহলে দেখবেন, শুধু ১০ জন সৈন্যের জীবন বাঁচেনি। বরং তাদের সন্তানদের জীবন বেঁচেছে, সন্তানের সন্তানদের জীবন বেঁচেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবন বেঁচে গেছে ওই একজনের একটি সিদ্ধান্তের বদৌলতে। বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে যে কেউ, যেকোনো স্থান থেকে। তাই এখানে যা শুরু হয় তা অবশ্যই বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনি বিশ্বকে পরিবর্তন করলে এটাকে কেমন দেখাবে? আমি আত্মবিশ্বাসী, এটা আগের থেকে অনেক অনেক ভালো দেখাবে। যদি আমার কথা ধর্তব্যে নেন, তাহলে বিশ্বকে ভালোর পথে পরিবর্তন করতে কিছু পরামর্শ দিতে পারি। আমার এই শিক্ষাগুলো আমি শিখেছিলাম নৌ বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। আপনি যদি একদিনও উর্দি না পড়েন বা আপনি যে পেশায় বা যে লিঙ্গেরই হোন না কেন, যে ধর্মের অনুসারী হোন না কেন, যে সামাজিক অবস্থান থেকে আসুন না কেন এই শিক্ষা আপনার কাজে লাগাতে পারবেন।
আমি ৩৬ বছর নেভি সিলে ছিলাম। ইউটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে কনোরাডো ক্যালিফোর্নিয়ায় বেসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমার এ যাত্রা শুরু হয়েছিল। নেভি সিলের বেসিক প্রশিক্ষণটিতে ছিল নরম বালিতে দীর্ঘ দৌড়ানো, মাঝরাতে সান ডিয়াগোর ঠা-া পানিতে সাঁতার কাটা, দিনরাত নির্ঘুম থাকা, সবসময় ঠা-া, স্যাঁতসেতে ভয়াবহ অবস্থায় থাকার অভ্যাস করার মতো কঠিন কাজ।
ছয় মাসের এই কঠোর প্রশিক্ষণে নেভি অফিসাররা প্রশিক্ষণার্থী যোদ্ধাদের ত্রুটি খুঁজে করতেন যেন তাদের বাদ দেওয়া যায়। তারা এমন যোদ্ধা খুঁজছিলেন যারা কঠোর,
বিশৃঙ্খল, ব্যর্থতায় পরিপূর্ণ পরিবেশেও নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি এই প্রশিক্ষণে জীবনের দশটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি। আমি আশা করি, আপনাদের জীবনেও এগুলো মূল্যবান হয়ে উঠবে।
প্রতিদিন সকালে আমার প্রশিক্ষকরা, যারা সবাই ছিলেন ভিয়েতনাম ফেরত যোদ্ধা আমাদের ব্যারাকে আসতেন এবং দেখতেন আমাদের ঘরের বিছানা পরিপাটি করে গোছানো আছে কি না। পরিপাটি মানে হলো, বিছানার কোনাগুলো বর্গাকার হবে, বিছানার চাদর টানটান থাকবে, বালিশ মাথার দিকের মাঝামাঝি থাকবে, অতিরিক্ত কম্বল পায়ের দিকে সুন্দরভাবে রাখা থাকবে। এটা ছিল একটা সহজ কাজ, কিন্তু প্রতিদিন সকালে আমাদের এটি পরিপাটি করে করতে হতো। মাঝেমধ্যে কাজটি অদ্ভুত মনে হতো। বিশেষ করে, আমরা যখন কঠোর পরিশ্রমী এবং প্রকৃত যোদ্ধা হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। কিন্তু এই ছোট কাজের সারবস্তু আমার কাছে পরিষ্কার হয় অনেক বছর পরে। আপনি যদি সকালে বিছানা পরিপাটি করে গোছাতে পারেন তাহলে একটি কাজ সুন্দরভাবে সমাধা করলেন। যা আপনাকে পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করতে উৎসাহ জোগাবে, তারপরে আরেকটি, তারপর আরেকটি। এভাবে দিনের সব কাজ করতে আপনি মনোবল পাবেন। দিনের শুরুতে একটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে আপনি দিনের আরও অনেক কাজ সম্পূর্ণ করা শুরু করলেন। আপনি যদি ছোট একটি কাজ সুন্দরভাবে সঠিকভাবে করতে না পারেন তাহলে বড় বড় কাজও সঠিকভাবে করতে পারবেন না। আর যদি আপনার দিনটি তত ভালো না যায় তাহলে ঘরে ফিরে আপনি একটি গোছানো পরিপাটি বিছানা পাবেন, যা আপনিই গুছিয়েছেন। একটি পরিপাটি বিছানা মনে আগামীকাল অপেক্ষাকৃত ভালো দিন হবে এই আশা জাগায়। তাই আপনি যদি দুনিয়া বদলাতে চান তাহলে নিজের বিছানা গোছানো দিয়ে শুরু করুন।