বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দশম শ্রেণির এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, এই মামলার প্রধান আসামি হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন জিঙ্গাসাবাদ চলছে। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এ নিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।

ধর্ষণের অভিযুক্তরা হলেন- আটোয়ারী উপজেলার পুরাতন আটোয়ারীর মালগোবা গ্রামের মৃত আমিবার রহমানের ছেলে প্রেমিক হাসান (২৫), একই এলাকার ফতেহপুর গ্রামের খামির উদ্দিনের ছেলে মো. সবুজ (৩০), আব্দুল রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম ওরফে ডিপজল (২৫), খাজিম উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), কৈলাসর ছেলে অমর (৩০), একই এলাকার আব্দুর রহমান (৪০)।  

জানা গেছে, মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক হয় কিশোরীর। এক বছর ধরে ওই কিশোরী তার মামার বাড়িতে যাওয়া আসার সুবাদে প্রেমিক হাসানের সঙ্গে দেখা করতো। এক পর্যায়ে হাসানের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ওই কিশোরী। গত শনিবার সকাল ১০টায় ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যায়। ওই কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে তেঁতুলিয়া থেকে পঞ্চগড়ে নিয়ে যায় প্রেমিক হাসান। ওই দিন বিকেলে পঞ্চগড় পৌঁছালে কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাত ৮টার দিকে আটোয়ারী উপজেলার পুরাতন আটোয়ারী এলাকার বন্দরপাড়া গ্রামে সড়কের পাশে চা বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে প্রেমিক হাসান ও তার বন্ধু সবুজ কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধামোর ইউনিয়নের আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হলে হাসান ও সবুজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিশোরীকে একা পেয়ে তারাও ধর্ষণ করে। 

এক পর্যায়ে কিশোরীকে ফেলে তারা সবাই পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষক অমর কিশোরীকে বন্দরপাড়ার রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। গভীর রাতে মান্নান নামে এক পথচারী কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে বন্দরপাড়া গ্রামের নায়েব আলীর বাড়িতে নিয়ে যায়। কিশোরী নায়েব আলীকে সব ঘটনা খুলে বললে কিশোরীর খালুকে খবর দেওয়া হয়। পরে তার খালু ভোর রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।