তেল-গ্যাস–খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ দেশের সম্পদের জন্য আন্দোলন করতে জানে। দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে তিনজন প্রাণ দিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। কিন্তু তারা আন্দোলন ভুলে নাই। তাদের মনে আরও বেশি আন্দোলন গড়ে উঠেছে। যদি ২০০৬ সালে বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বাস্তবায়ন করতে পারত, তাহলে আজকের এই জীব-বৈচিত্র দেখতে পেতাম না। আজকের ফুলবাড়ী মরুভূমিতে পরিণত হতো। এখানে কোন গাছ থাকত না, কোন মানুষ থাকত না।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে এশিয়া এনার্জি বহুবার ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা কখনই সফল হয়নি। তারা এখনও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে চুক্তি করা ৬ দফা পূরণ না হলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে। শুধু ফুলবাড়ীবাসী নয়, পুরো দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর পাশে ফুলবাড়ী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধের পাশে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনু মোহাম্মদ এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ৬ দফা চুক্তি করেছিল। সে সময় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংহতি জানিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও সেই ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করা না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই আন্দোলনে শুধু ফুলবাড়ীবাসীই নয়, পুরো দেশ অংশ নেবে।
ফুলবাড়ী দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য হবিবর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল ৮টায় পৃথক পৃথক শোক র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে শহীদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।