ক্যানসারে আক্রান্ত কেজিএফ ২ খ্যাত অভিনেতা হরিশ রায়। এক কন্নড় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, থ্রোট ক্যানসারের চতুর্থ স্টেজে রয়েছেন তিনি। অভিনেতা বলেন, 'চার বছর আগে আমার গলায় এটি ছোট লাম্প তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, সেই সময় আমি সার্জারি করাতে চাইনি। ভয় পেয়েছিলাম। কারণ, ওই সময় আমার সন্তানরা ছোট ছিল। সেই সময় ঝুঁকি নিতে চাইনি। কিন্তু, এই সময়ের মধ্যেই আমার ফুসফুসে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল।'
কেজিএফ-এর শুটিং চলাকালীনই হরিশের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতো। সে সময় অভিনেতা বুঝতে পারেন যে এই অসুখকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু, অভিনেতার কাছে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার টাকা ছিল না। তখন এক বন্ধুর পরামর্শ মেনে বেঙ্গালুরুর সরকারি ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন। সার্জারি হয়। রেডিয়েশন থেরাপিও চলে। কিন্তু, স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেনি। চিকিৎসকরা হরিশকে জানান, এখন তার ক্যানসার ফোর্থ স্টেজে পৌঁছে গিয়েছে।
হরিশ এ-ও জানান, টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারেননি। অথচ তার গলা ফুলতে শুরু করেছিল। বিষয়টি যাতে বোঝা না যায় সেই কারণেই তিনি দাঁড়ি রাখা শুরু করেন। 'কেজিএফ ২-এর ক্লাইম্যাক্স শুট করার সময় আমার শ্বাস নিতে সমস্যা হতো। তবে টিমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করিনি কখনও। চেয়েছিলাম, সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলুক। আমার জন্য কেউ চিন্তিত হোক, সেটা চাইনি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম আমাকে কারও কাছে সাহায্য চাইতে হবে। সোশুল মিডিয়ায় পোস্ট করার জন্য একটি ভিডিওও শুট করেছিলাম। কিন্তু, সেটা পোস্ট করতে ভয় পেতাম। ভাবতাম, কেউ যদি সাহায্য না করে? কেউ যদি আমাকে আর কাজ না দেয়? তবে সৌভাগ্যক্রমে এখনও সেই ভিডিও পোস্ট করতে হয়নি আমাকে।'
অভিনেতার রোগের কথা জানতে পেরে স্যান্ডেলউডের অনেক তারকাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে কেজিএফ-এর টাকা পাওয়ার পর ভালো ডাক্তার দেখান অভিনেতা। তাকে জানানো হয়, এই রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে যেতে পারে। কিন্তু, তার জন্য যে টাকার প্রয়োজন সেটা হরিশের কাছে ছিল না। প্রতিমাসে শুধুমাত্র ওষুধের জন্য নাকি তিন লাখ টাকার দরকার ছিল। এমন সময়েই কেজিএফের অফার পান হরিশ।
ওই ছবিতে অভিনয়ের পর পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়েই চিকিৎসা শুরু করেন। এখন অনেকটা ভালো আছেন। অভিনেতা বলেন, 'এখন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আমার রোগ সেরে যাবে। চিকিৎসা চলছে। তাই বর্তমানে অনেকটা সুস্থ আমি।' সূত্র : বলিউডলাইফ ডটকম