ক’দিন বাদেই ভারতে অনুষ্ঠিত হবে টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৮ মার্চ থেকে শুরু আসর। অথচ স্বাগতিক ভারত বাংলাদেশে এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের জন্য এই আসর নিছকই প্রস্তুতিমূলক। ৬ মার্চের ফাইনালে ট্রফি জিতে তারা প্রস্তুতিটা সারতে চায় ভালোভাবে। এদিকে ২০১৬ কোয়ালিফায়ার খেলে বিশ্বকাপে মূলপর্বের আশায় থাকা বাংলাদেশ ফাইনালে উঠেছে দ্বিতীয়বার। ভারত ফেভারিট হলেও একটা অঘটনের স্বপ্ন দেখছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। ফাইনালের আগে আবহটা এমনই ছিল। হঠাৎ করে সব চোখ চলে গেল নেট দুনিয়ায়। বাংলাদেশি কোনো এক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হলো। দেখা যায় উইকেট নেওয়ার পর আগ্রাসী তাসকিনের হাতে ধোনির কাটা মু-ু। এই এক ছবি ফাইনালের আগে মাঠের লড়াইকে বদলে দিল নেটের লড়াইয়ে।
বীভৎস সেই ছবি অনেকের কাছেই ছিল মূর্খতা। আবার অনেকে দেখছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ। ফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ রবি শাস্ত্রিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবাক হন। জানান এমন কাজও যে হয় তা জানা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা এসব দেখি না। পত্র-পত্রিকায় কী আসে এটা তোমাদের (সাংবাদিক) দেখার কাজ। তোমরা দেখ-লিখ, তোমরাই আলোচনা করো। আমরা খেলতে এসেছি, খেলব।’
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ থেকে ছড়ানো এই ছবি চলে যায় পাশের দেশ ভারতেও। ম্যাচ পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশটি থেকে কোনো জবাব আসেনি। কিন্তু ফাইনালে ধোনির দল ৮ উইকেটে জেতার পর তা-ব শুরু করে ভারতীয় একটি হ্যাকার প্রতিষ্ঠান। কেরালা সাইবার ওয়ারিয়র্স নামের ওই হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করে। সেখানে ভারতের জয়ধ্বনি দেওয়ার পাশাপাশি লেখা ছিলÑ‘তোমাদের ক্রিকেট দল কিছুই না’। নিজেরা একটি ছবি পোস্ট করে তাতে বাংলাদেশের শূন্য ট্রফি ক্যাবিনেট দেখা যাচ্ছিল। ঘটনার পর কেরালা সাইবার ওয়ারিয়র্স জানায় ফাইনালের আগে ওই ছবির প্রতিশোধ নিয়েছে তারা, ‘বাংলাদেশ এ লড়াই শুরু করেছে আমরা শেষ করলাম। কোনো ওয়েবসাইট হ্যাক করা অপরাধ কিন্তু আমরা এটাকে জবাব দেওয়া হিসেবে দেখছি। বাংলাদেশি সাইবার হ্যাকাররা যা করেছে আমরা তার প্রতিদান দিলাম।’
অবশ্য মাঠের বাইরের নেট দুনিয়ার এই দ্বন্দ্ব ছুঁতে পারেনি ক্রিকেটকে। উল্টো সেদিন ফাইনালে বৃষ্টি হয়ে খেলার আসল মজা মাটি হতে চলেছিল। অবশ্য ম্যাচ প- হয়নি। ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচটি মাঠে গড়ায় এবং মাত্র ৭ বল বাকি থাকতে শিরোপা জিতে নেয় ভারত।
বাংলাদেশের আয়োজনে টানা তৃতীয় এশিয়া কাপ। ঘরের মাঠে আগের আসরে (২০১৪) মুখ থুবড়ে পড়া টাইগাররা এবার নতুন করে জ্বলে ওঠে। রাউন্ড রবিন পর্বে হওয়া ৫ দলের লড়াইয়ে দ্বিতীয় সেরা হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন মাশরাফীরা। ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে ৪৫ রানে হারে শুরু হয় বাংলাদেশের। কিন্তু পরের তিন ম্যাচে যথাক্রমে আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে লো স্কোরিং ম্যাচে জয় আসে। আরব আমিরাতের সঙ্গে ৮ উইকেটে ১৩৩ করেও ৫১ রান, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৭ উইকেটে ১৪৭ করে ২৩ রানের জয় এবং পাকিস্তানকে মাত্র ৭ উইকেটে ১২৯ রানে আটকে দিয়ে ৫ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।
তাই ফাইনালেও লো-স্কোরিং ম্যাচের সম্ভাবনা দেখছিল সবাই। হয়েছেও তাই। মাত্র ১৫ ওভারের ম্যাচে ১২১ রানের লক্ষ্য যায় ভারতের কাছে। এক সময় পর্যন্ত ১২০ রান হবে তা ভাবাই যাচ্ছিল না। ৭ নম্বরে নামা মাহমুদউল্লাহর ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কার ৩৩ রানের ক্যামিও দলকে ওই রান এনে দেয়। পুরো আসরে বাংলাদেশ বোলারদের কিপটে বোলিংয়ের উদাহরণে বিশ্বাসটাও জাগে। কিন্তু ধোনি দক্ষ ফিনিশারের মতো আরেকটি ফিনিশিং ইনিংস দিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন। রান তাড়ায় নেমে দ্বিতীয় ওভারে রোহিত শর্মা ফেরার পর দেখেশুনে খেলছিলেন শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি। ধাওয়ান ৪৪ বলে ৬০ করে ফেরেন ১৩তম ওভারে দলীয় ৯৯ রানে। ওই সময় ১৪ বলে ২২ লাগে ভারতের। ধোনি এসেই ২টি ছক্কা ও ১ চারে মাত্র ৬ বলে ২০ করে ম্যাচ জিতিয়ে দেন। কোহলি ২৮ বলে ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। শুরুতে এক ঝড়ে ম্যাচ না হওয়ার শঙ্কা জাগে আর ম্যাচের শেষে ধোনির ঝড়ে শিরোপা হারানোর বেদনা লাগে। ৮ উইকেটের হার হজম করে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দেয় বাংলাদেশ।