পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

গল্প : হাতি আর শেয়ালের গল্প

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. অমিত শক্তিধর কাকে বলা হয়েছে?

উত্তর : ‘অমিত’ শব্দের অর্থ প্রচুর। আর ‘শক্তিধর’ অর্থ হলো শক্তি আছে যার। অমিত শক্তিধর অর্থ হলো প্রচুর শক্তি আছে যার। এখানে গুরুগম্ভীর ভারিক্কি চালের কেশর দোলানো সিংহকে অমিত শক্তিধর বলা হয়েছে।

২. বনের পশুদের ওপর অশান্তি নেমে আসার কারণ কী?

উত্তর : হাজার রকমের প্রাণী আর অসংখ্য পাখপাখালি ভরা বনে কোথাও কোনো ঝামেলা ছিল না। বেশ শান্তিতেই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু এক দিন তাড়া খেয়ে মস্ত একটা হাতি এই শান্ত বনে ঢুকে পড়ে। বিশাল শরীর আর দারুণ তিরিক্ষি মেজাজের হাতিটা বনে ঢুকেই শুরু করে তুলকালাম কান্ড। নিরীহ একটা হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়, ছোট্ট একটা পিঁপড়েকে পিষে মারে পায়ের তলায়। এভাবে হাতির আগমন ও অত্যাচারের কারণে শান্ত বনের পশুদের ওপর অশান্তি নেমে আসে।

৩. গল্পে ‘মুক্ত স্বাধীন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : গল্পে ‘মুক্ত স্বাধীন’ বলতে হাতির অত্যাচার থেকে বনের অধিবাসীদের নিজেদের রক্ষা করে নিরাপদ থাকাকে বোঝানো হয়েছে। দীর্ঘদিন হাতির অত্যাচারে বনের পশুরা শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি। শিয়াল কৌশলে হাতিকে নদীতে ডুবিয়ে কুপোকাত করে। অত্যাচারী হাতির শাস্তিতে বনের সব প্রাণী আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠে বলেছিল,

‘আর দেখব না হাতির ছায়া

আমরা এখন মুক্ত স্বাধীন

নাচছি সবাই তা-ধিন-তা-ধিন।

৪. শিয়াল হাতিকে শাস্তি না দিলে বনের পশুপাখিদের কী হতো ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : শিয়াল কৌশল করে হাতিকে শাস্তি না দিলে বনের পশুপাখিরা শান্তিতে থাকতে পারত না। সারাক্ষণ ভয়ে তটস্থ থাকত কখন কাকে ধরে হাতি শুঁড়ে তুলে আছাড় দেয়, কখন কাকে পায়ের নিচে পিষে ফেলে এ ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হতো। হাতি কুপোকাত না হলে স্বাধীনভাবে কোনো প্রাণী বনে চলাফেরা করতে পারত না।

৫. হাতির শাস্তির জন্য তার চরিত্রের কোনো বিষয়গুলো দায়ী?

উত্তর : হাতির শাস্তি পাওয়ার জন্য তার চরিত্রের যে বিষয়গুলো দায়ী সেগুলো হলো :

ক. নিজের অহংকারী চলাফেরা

খ. তিরিক্ষি মেজাজ

গ. তুলকালাম কা- বাধিয়ে দেওয়ার অভ্যাস

ঘ. নিজেকে বনের রাজা মনে করা

ঙ. অন্য প্রাণীদের তুচ্ছজ্ঞান করা

চ. প্রচ- হুঙ্কারে বন তোলপাড় করে অত্যাচারী মনোভাব প্রকাশ করা

ছ. নিজের নির্বুদ্ধিতা

৬. মানুষ যখন সভ্য হচ্ছে তখন মিলেমিশে থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল কেন?

উত্তর : মানুষ যখন একটু একটু করে সভ্য হচ্ছে, তখন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। কারণ মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বাস করতে হলে মানুষসহ সব প্রাণীকে মিলেমিশে পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে থাকতে হয়। ‘হাতি আর শেয়ালের গল্পে’ বনের পশুপাখিরা মিলেমিশে বাস করত বলেই তারা অত্যাচারী হাতিটার কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করে বনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

৭. সবাই মিলে শেয়ালকে দায়িত্ব দিল কেন?

উত্তর : হাতিটার বিশাল শরীর আর তুলকালাম কা- দেখে অমিত শক্তিধর সিংহ ও হালুম বাঘ মামাও ধারে-কাছে ঘেঁষতে ভয় পেল। তাদের তুলনায় শেয়াল ছোট হলেও বুদ্ধি আর চালাকিতে বনের অন্য প্রাণীরা তার সমকক্ষ ছিল না। তাই হাতিকে শায়েস্তা করার জন্য সবাই মিলে শেয়ালকে দায়িত্ব দিল।

৮. শেয়াল কীভাবে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল?

উত্তর : শেয়াল তার বুদ্ধি দিয়ে বনের পশুপাখিকে রক্ষা করল।

হাতি আর শেয়ালের গল্পে হাতিটার অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বের করার দায়িত্ব যখন শেয়ালের ওপর পড়ল, তখন শেয়াল হাতিটার কাছে গেল। হাতিকে শেয়াল তার কথায় তুষ্ট করে বলল যে তাকে রাজা হিসেবে বরণ করার জন্য নদীর ওপারে সবাই অপেক্ষা করছে। শেয়ালের চালাকি বুঝতে না পেরে বোকা হাতি শেয়ালের দেখাদেখি নদীর পানিতে পা দিতেই তার ভারী শরীর নিয়ে তলিয়ে গেল। আর এভাবেই শেয়াল তার বুদ্ধি দিয়ে বনের পশুদের রক্ষা করল।

৯. অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম শেষ পর্যন্ত কী হয়?

উত্তর : অহংকারী ও অত্যাচারীর শেষ পরিণাম পতন।

হাতি ও শেয়ালের গল্পের হাতিটা যেমন অহংকারী, তেমনি অত্যাচারী। বনের পশুরা একজোট হয়ে তাকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব শেয়ালকে দিল। শেয়াল তার বুদ্ধি দিয়ে হাতিকে নদীতে নিয়ে যায়। শেয়ালের দেখাদেখি নদীর পানিতে পা দিয়ে হাতিটা তার বিশাল শরীর নিয়ে তলিয়ে যায়। তাই বলা যায়, অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণামে পতন বা ধ্বংস হয়।