অবৈধ বিদ্যুতে গভীর রাতেও চলে বিকিকিনি

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী এলাকায় অবৈধ দখলদারদের উৎপাতে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না পথচারীরা। ওই এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনের ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়ক-ব্রিজও হকারদের দখলে থাকায় বিঘিœত হচ্ছে যানবাহন চলাচলও। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেওয়া সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিদিন বিকেল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ফুটপাতের দোকানগুলোতে জ¦লছে অবৈধ সংযোগের বৈদ্যুতিক বাতি। খোদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর এলাকার এই অনিয়মে ক্ষোভ-হতাশা দুটোই প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ফুটপাতের এসব অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণ করায় তারা কিছু বলতেও পারেন না। প্রশাসনও নেয় না কোনো পদক্ষেপ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা পরিষদ রোড ও গার্মেন্টস পল্লীতে অবস্থিত তিনটি ছোট ব্রিজের ফুটপাতে তিন শতাধিক দোকান রয়েছে। ওইসব দোকানদার দাবি করেন, গার্মেন্টস পল্লীর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এ কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে কোনো হকার ওইসব নেতার নাম বলতে চাননি। তারা জানান, এখানে দোকান বসানোর জন্য প্রতিটি হকারের কাছ থেকে জায়গার অগ্রিম ১৫-২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ভাড়াবাবদ নেওয়া হয় মাসে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা। ঈদ-পূজার মতো উৎসবের সময় এ হার আরও বেড়ে যায়।

এদিকে ফুটপাতে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান চলায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থায়ীয় ব্যবসায়ীরা। একাধিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাখ লাখ টাকার দোকান ভাড়া নিয়ে আমাদের ব্যবসা করতে হয়। কিন্তু ফুটপাতে বেতন বিনিয়োগ না থাকায় তারা আমাদের চেয়ে কিছুটা কম দামে দিতে পারে। এছাড়া এখন আমাদের রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হয়। কিন্তু ফুটপাতে অনেক রাতেও বেচাকেনা চলে। এসব কারণে আমাদের ব্যবসায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলীম ঢালি বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশ মেনে রাত ৮টার আগেই দোকান বন্ধ করে দিই। কিন্তু ফুটপাতেরগুলো চলে। এ বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষকে কয়েকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক হকার জানান, সেন্টু নামে এক ব্যক্তি একটি মিটার থেকে এসব পার্শ্বসংযোগ দিচ্ছেন। কিন্তু ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-৪-এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা তা জেনেও চুপ করে থাকেন। সেন্টু নামে ওই ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে মাত্র তিন-চার ঘণ্টার জন্য। এখানে আরও কয়েকজনের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদ মার্কেট থেকে লাইন নিয়ে আমরা চালাচ্ছি। প্রয়োজনে বন্ধ করে দেব।’ পল্লী বিদ্যুতের শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের সহকারী ম্যানেজার আবদুস সালাম রাফি বলেন, ‘ওখানে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা নেব।’

আওয়ামী লীগ নেতা ও আগানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহ খুশি বলেন, ‘আগে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও স্থানীয় কয়েকজন নেতাদের কারণে উচ্ছেদ করতে পারিনি।’

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান গতকাল বলেন, ‘ফুটপাতে দোকান করাই অবৈধ। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের তো প্রশ্নই আসে না। সংশ্লিষ্টদের আজই নির্দেশ দেবো এ বিষয়ে।’