মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গুম দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘যেকোনো দেশের নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গুম করাকে প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করেছে। আমি জাতিসংঘের অধীনে সব গুমের তদন্তের দাবি করছি।’
গুম হওয়া নেতাকর্মীর স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বাইরে আমেরিকায় জাতিসংঘের সদর দপ্তর, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া পার্লামেন্টের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন প্রবাসী বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে আমেরিকায় যে কর্মসূচি পালন করা হবে সে কর্মসূচি অংশ নেবেন গুম হওয়াদের স্বজনদের একটি অংশ। এ ছাড়া ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে সকাল ১০টায় মায়ের ডাক সংগঠনের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।’
দিবসটি উপলক্ষে বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৩০ আগস্ট ‘গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম দিবস’ উপলক্ষে আমি হারিয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশে গুমের আতঙ্ক এখন সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। দুঃশাসন থেকে উৎপন্ন হয় গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যার মতো মানবতা বিরোধী হিংস্রতা।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারি সরকারের গড়ে তোলা আইন প্রয়োগকারি সংস্থার পরিচয়ে বিরোধী দলের প্রতিবাদী নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া এখন নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা বিরোধী দল ও মতের মানুষদের অল্পদিন-দীর্ঘদিন অথবা চিরদিনের জন্যে নিখোঁজ করে দেয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুম হচ্ছে একদলীয় দুঃশাসনের নমুনা। রাষ্ট্রের এ অমানবিক আচরণ সংবিধানবিরোধী। সরকারবিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্যই তারা এই কর্মসূচি জোরেসোরে বাস্তবায়ন করছে। বিরোধীদল শূণ্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য গুমকে প্রধান অবলম্বন করা হচ্ছে। এই নির্দয় গুমের শিকার হয়েছেন সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু ও চৌধুরী আলম, সুমন, জাকিরসহ ছয় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। আরেকটি লোমহর্ষক গুমের শিকার হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাকে দুই মাস গুম করে রাখার পর পাচার করা হয়েছে পাশের দেশে। এই নতুন ধরনের ঘটনা দেশবাসীকে মহা আতঙ্কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গুম হওয়া মানুষদের বেদনার্ত পরিবাররা এখনও পথ চেয়ে বসে আছে প্রিয়জনদের ফিরে আসার সম্ভাবনায়।’
তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হলেই গুম, অপহরণ, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ দূর হবে, জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।’