ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় দিল্লির সেনাহাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তাকে ভারতের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন ও পদ্মবিভূষণ এবং শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে, যুক্তরাজ্যের ইউরোমানি পত্রিকার একটি সমীক্ষায় তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হন।
প্রণব মুখার্জিকে বাংলাদেশের জামাই বলা হয়। তার স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান নড়াইল জেলার সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে শুভ্রা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে নড়াইলে শ্বশুরের গ্রামে এসেছিলেন প্রণব মুখার্জি। তখন তাকে নড়াইলবাসী জামাই আদরে বরণ করে নিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে কন্যা শর্মিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়েও একবার নড়াইল এসেছিলেন শুভ্রা দেবী।
প্রণব মুখার্জির জন্ম ১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরভূম জেলার কীর্ণাহারের কাছে কিরিটি গ্রামে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের এক যুগ আগে। তার বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায়। প্রণব মুখার্জি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছেন গ্রামের এমন এক স্কুলে যেখানে তাকে গামছা পরে নদী পার হয়ে যেতে হতো। সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের পাঠ চুকিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ইতিহাসে এমএ করে তিনি এলএলবিও পাস করেন।
শিক্ষা শেষে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফে আপার ডিভিশন ক্লার্ক হিসেবে। তারপর শিক্ষকতা করেছেন প্রথমে হাওড়া জেলার বাঁকড়া ইসলামিয়া হাই স্কুলে ও পরে বিদ্যাসগর কলেজে। কলেজে শিক্ষতার সময়ই তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। ১৯৬৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের বাংলা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রায় পাঁচ দশক ভারতীয় সংসদের সদস্য। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথম বার কংগ্রেস দলের প্রতিনিধিস্বরূপ রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালেও তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে কেন্দ্রীয় শিল্পোন্নয়ন উপমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম ক্যাবিনেটে যোগদান করেন। ক্যাবিনেটে ক্রমান্বয়ে পদোন্নতির পর ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
নরসিংহ রাওয়ের মন্ত্রিসভায়ও তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকার গঠনের পর থেকে পরবর্তী মনমোহন সিংহের সরকারে প্রণব মুখার্জি কখনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কখনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কখনোবা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১২ সালে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
প্রণব মুখার্জিকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু মনে করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে।