শেরপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর নিরাপত্তার জন্য সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, 'শেরপুরের ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মো. ছানুয়ার হোসেন ছানুসহ কয়েকজন ঠিকাদার শেরপুর অফিসে এক বছর আট মাস আগে আমার যোগদানের পর থেকেই টেন্ডারবাজি, কাজ না করে বিল ভাউচার উত্তোলন, কাজের নকশা অনুযায়ী কাজ না করা, তাদের কথা মতো বিল না দিলে পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এমন কী আমার যোগদানের এক দিন পরই ছানুয়ার হোসেন ছানু তার প্রতিনিধি ও ঠিকাদার সেলিম তরফদার সুজন জেলা পরিষদের অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে তাদের ইচ্ছামতো কাজের সুবিধা না দিলে মানববন্ধন, ঝাড়ুমিছিল ও যৌন কেলেঙ্কারিসহ অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি করবে।'
জিডিতে বলা হয়, জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলায় একটি রাস্তার কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং ঠিকাদার সেলিম তরফদার সুজন মক্কায় হজে গিয়েও মোবাইলে বিল চেয়ে হুমকি দেন। এছাড়া অন্যান্য উপজেলাতেও একইভাবে বিভিন্ন কাজ না করেই বিল দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের হুমকি দিয়ে আসছে।
ওই প্রকৌশলী আরও অভিযোগ করে বলেন, ১৫ বছর যাবৎ ঠিকাদার ছানুয়ার হোসেন ছানু জেলার বাইরের অন্যান্য ঠিকাদারদের কাজ জোরপূর্বক বাস্তাবায়ন করে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে ঠিকাদার সেলিম তরফদার সুজন অন্য জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিতু ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারীকে এলজিইডির অফিস চত্বর থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণ করে উঠিয়ে নিয়ে যায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ডাকবাংলোয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং পরবর্তীতে ওই কাজটিও সুজন বাস্তবায়ন করেন।'
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ বাদল জানান, 'নিয়ম অনুযায়ী জিডির তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই আদালতে ওই জিডির তদন্তের জন্য আবেদন পাঠিয়েছি। কিন্ত এখনও সে বিষয়ে কোন জবাব পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।'