মানিকগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে পুলিশ, সাংবাদিকসহ বেশি কয়েকজন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে শহীদ রফিক সড়কে আসতে গেলে শহরের খালপাড় এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও পাল্টা টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
এই ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ৩ জন বিএনপির কর্মীকে আটক করেছে।
জেলা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল ১১টার দিকে আলোচনা সভার আয়োজন করে। নেতাকর্মীরা শহরের আশপাশে অবস্থান নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসার প্রস্তুতি নেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সিফাত কোরাইশি সুমন ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকশ ছাত্রলীগ কর্মী জড়ো হন ভাষা শহীদ রফিক চত্বরে।
এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির জামায়াতের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর তারা শহরে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে সাড়ে ১০টার দিকে চলে যান।
এদিকে সকাল ১১টার দিকে শহরের সেওতা এলাকা থেকে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় খালপাড় মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে বিএনপির মিছিল এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করে। এ সময় মিছিলের পেছন দিকে থেকে পুলিশকে লক্ষ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশও প্রথমে লাঠিপেটা পরে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সেওতা শহীদ তুজু সড়কে পূর্ব পাশে পুলিশ ও উত্তর পাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। বেলা ১২টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএ কবীর জিন্নাহ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিন আগে পুলিশের কাছে অনুমতি নিয়ে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত ও কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।