দেশে আগস্ট মাসে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৬০ শতাংশই ঘটেছে সড়কে বাইক লেন না থাকা এবং সড়কপথের বেহাল দশার কারণে। এ সময় বাইক লেন না থাকায় এবং দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ১ হাজার ৬২ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯২ জন ও আহত হয়েছেন ৭৫০ জন।
অন্যদিকে, গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫০ শতাংশই শিশু-কিশোর-তরুণ। নিহতদের বয়স ৭-২৫ বছরের মধ্যে এবং অধিকাংশই শিক্ষার্থী। নিহতদের মধ্যে ২০ শতাংশ বৃদ্ধ ও তাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি। বাকি ৩০ শতাংশ বিভিন্ন বয়সী।
বৃহস্পতিবার সেভ দ্য রোড এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে গত আগস্ট মাসে সড়কপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৭৫৭টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬০৩ জন ও আহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৯০ জন।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অসাবধানতা ও ঘুমন্ত চোখে-ক্লান্তিসহ দ্রুত চালানোর কারণে ট্রাক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮৩৯টি। এতে মারা গেছেন ৬৮ জন ও আহত হয়েছেন ৫৬০ জন। খানাখন্দ, বিশ্রাম ব্যতীত একটানা চালানোর কারণে বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮৯৬টি। এতে নিহত হয়েছেন ২৫৫ জন ও আহত হয়েছেন ৯১৮ জন। পাড়া-মহল্লা-মহাসড়কে অসাবধানতায় চলাচলের কারণে লরি-পিকআপ-নসিমন-করিমন-ব্যাটারিচালিত রিকশা-সাইকেল ও সিএনজি দুর্ঘটনা ঘটেছে ৯৬০টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৮৮ জন ও আহত হয়েছেন ৭৬২ জন।
সেভ দ্য রোড আরো জানিয়েছে, গত মাসে নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৫৫টি। এতে মারা গেছেন ১৫ জন, নিখোঁজ রয়েছেন ৩৪ জন ও আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬৬টি। এতে মারা গেছেন ১৯ জন ও আহত হয়েছেন ১৭৪ জন। এ সময় আকাশপথে কোন দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিমানবন্দরে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন।
প্রতিবেদনে সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা বলেন, জুন মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনো পদ্মা সেতুতে বাইক লেন করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তখনই বাইক লেনের ব্যবস্থা করা হলে এখন আর পদ্মা সেতুতে বাইক নিষিদ্ধ করতে হতো না।
প্রতিবেদনে সারা দেশে সব সড়ক, মহাসড়ক ও সেতুতে অবিলম্বে বাইক লেন, গতিসীমা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন-পর্যবেক্ষণ এবং ৫ কিলোমিটার পর পর পুলিশ বুথ স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
দেশের ২৬টি জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও ইলেকট্রনিক চ্যানেলে প্রকাশিত-প্রচারিত তথ্যর পাশাপাশি সারা দেশে সেভ দ্য রোডের স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।