বকেয়া মজুরির দাবিতে হোসনাবাদ চা বাগানে কর্মবিরতি

বকেয়া মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হোসনাবাদ চা বাগানে দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছেন চা শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। বিকেলে হোসনাবাদ চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিকেরা।

হোসনাবাদ চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির উপদেষ্টা ধীরেন তাঁতী জানান, ২০১৯ সালে চা-শ্রমিকদের মজুরি ১০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়। চা-বাগানের নিয়মানুযায়ী চুক্তি শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি অনুযায়ী মজুরি দিতে হয়। তখন বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি জমা হয়। মালিকপক্ষ সেই বকেয়া টাকা কয়েকটি ধাপে ভাগ করে শ্রমিকদের দিয়ে থাকে। কিন্তু হোসনাবাদ চা বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সেই টাকার একটি অংশ এখনো পরিশোধ করেনি।

তিনি বলেন, মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করায় কারো কাছে এখন টাকা নেই। সে জন্য বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষকে কয়েক দিন ধরে বলা হচ্ছিল। কিন্তু বাগানের ম্যানেজার বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্টাফ দিয়ে মজুরি দেয়া শুরু করেন। বকেয়া টাকা দেননি। এ নিয়ে শ্রমিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ কাজে যোগ দেননি।

পঞ্চায়েত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন মিয়া বলেন, শ্রমিকরা অনেক কষ্ট করে চলছেন। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার দিন বকেয়া টাকা দিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা উল্টো খারাপ আচরণ করেছেন। সে জন্য শুক্রবার বকেয়া মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। বিকেলে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, আগামীকাল বকেয়া মজুরি পরিশোধ করবে। এ জন্য আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। আগামীকাল সবাই কাজে যোগ দেবেন।

এ বিষয়ে হোসনাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপক কমল সরকার জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাজে যোগ দেবেন তারা। তাদের বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করা হবে।