শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বাংলাদেশকে দুই উইকেটে হারিয়ে সুপার ফোরে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলংকা। আজ সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামছে তারা। তার আগে টাইগারদের কাটা গায়ে যেন নুন ছেটালেন শ্রীলংকান স্পিনা মহেশ থিকশানা। এক টুইটে বাংলাদেশের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনকে পরোক্ষভাবে খোঁচা দিলেন এই লংকান।
স্পিনার মহেশ থিকশানা টুইটারে জয় উল্লাসে মেতে ওঠা লংকানদের ছবি পোস্ট করে তিনি সেখানে লিখেন, ‘মাঠে যখন ১১ জন ভাই আছে, তখন আমাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় দরকার নেই’।
আফগানিস্তান ম্যাচের পর থেকেই দুই দল মাঠে লড়াইয়ের আগে নামে কথার লড়াইয়ে। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন শ্রীলংকার অধিনায়ক দাসুন শানাকা। তিনি বলেছিলেন, ‘আফগানদের তুলনায় বাংলাদেশ সহজ প্রতিপক্ষ। সাকিব ও মোস্তাফিজ ছাড়া তাদের বিশ্বমানের কোনো বোলার নেই।’
এটুকুতেই আগুন ধরিয়ে দেন শানাকা। সমর্থকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে লংকান দলপতির এই ‘মাইন্ড গেম’ এর ফাঁদ বুঝতে পারেননি বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনও। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে সেই পাতা ফাঁদে পা দেন তিনিও। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জানি না শানাকা কেন এই কথা বলেছে। আমাদের তো তাও দুজন বিশ্বমানের বোলার আছে, কিন্তু শ্রীলংকার কোনো বোলারই আমার চোখে পড়ছে না।’
কথার লড়াই একে-অন্যের পাল্টা জবাব চললেও মাঠে লড়াইয়ে কথার সত্যতা ঠিকই প্রমাণ করেছে শ্রীলংকা। শেষ ওভারে বাংলাদেশকে হারায় তারা। সব ব্যাটার আউট হয়ে গেলেও বোলাররা হাল ছেড়ে দেননি। ম্যাচ জিতিয়ে তবেই মাঠ ছেড়ে ফিরেছেন। তাতে নিশ্চিত হয় সুপার ফোরে খেলাও।
তবে শুধু ম্যাচ জয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে পারেননি লংকানরা। সেই টুইটে একজন কমেন্ট করেন, ‘লড়াইটা ছিল দেখার মতো কারণ, এটি একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল। আগামী ম্যাচের জন্য শুভকামনা।’
চাপের মধ্যে থেকেও ম্যাচ জয় নিয়ে ফেরায় শ্রীলংকার ক্রিকেটাররা প্রশংসা কুড়িয়েছেন দেশটির কিংবদন্তী খেলোয়াড় ও সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। সেই টুইটে আবার সুজনকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি, ‘সবাই আজ ভালো করেছ। চাপের মধ্যে এই জয়ের পথে ছিল দুর্দান্ত একটা লড়াই। বলা ভালো যে এটি একটি বিশ্বমানের পারফরম্যান্স ছিল।
মাঠে লড়াইয়ের মনোভাব ও দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে ক্রিকেট সমর্থকদেরও মন জয় করেছে লংকানরা। সাকিব ও হাসারাঙ্গাদের লড়াইটা ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক একটি ম্যাচ। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই মনে হয়েছিল বাংলাদেশের দিকেই জয়ের পাল্লা। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।