পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যুবদলকর্মীর শরীরে গুলির চিহ্ন নেই: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ নারায়ণগঞ্জে যুবদলকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা দেশকে অস্থিতিশীল করতে কোনো আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড কি না তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বলছে, নারায়ণগঞ্জে যুবদলকর্মী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেছে তার শরীরে গুলির চিহ্ন নেই। বরং তার শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন আছে। এ ঘটনা নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে।’

শনিবার সকালে রাজধানীর পূবালী ব্যাংক অডিটোরিয়ামে পূবালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিষেধ করছেন। জনগণ আতঙ্কিত হয়; আপনারা (বিএনপি) এমন কাজ করবেন না। আন্দোলনের নামে হাতে লোহার রড নিয়ে তাণ্ডব করবেন এসব বরদাশত করা হবে না। কারণ জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াও সরকারের দায়িত্ব।

সহিংসতা করলে পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে উল্লেখ করে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে বসে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট করতে চাচ্ছে। এগুলো করে পার পাওয়া যাবে না। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক তারেক পালিয়ে থেকে রেহাই পাবে না। দেশে যখনই আসবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে আজ বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো দেশ হতে পারত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা জনগণের ভাগ্যের কথা চিন্তা করেনি। তারা নিজেদের ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিল। দুভার্গ্য আমাদের দেশের কিছু মানুষ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের চক্রান্ত বাস্তবায়ন করেছে। আর এর নেপথ্যে ছিল জিয়াউর রহমান।’

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, গত ১৩ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ পৃথিবীতে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে। যে দেশ একসময় ব্যর্থ রাষ্ট্র, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের দেশ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, সেই দেশকে নতুন পরিচয় এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে।

পূবালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ ছানাউল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ।