বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহনাজ আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কামারের মোড় এলাকার আজিজুল হক ছাত্রীনিবাস থেকে গত শনিবার রাতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ঘাগোয়ায়।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শাহনাজের গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার বিয়ের খবর পেয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এদিকে শাহনাজের ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে ফেসবুকে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক এক পোস্টে শাহনাজকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘প্রিয় শাহনাজ, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়, বেঁচে থাকাটাই সমাধান। হেরে যাওয়া কখনো কোনো গন্তব্য হতে পারে না। জেতার জন্য লড়াই করাটাই জীবনের লক্ষ্য। যে তোমাকে বেঁচে থাকতে দেয়নি, তার জন্যই তোমাকে বেঁচে থাকতে হতো। দেখাতে হতো তোমার জীবনে সে কতটা তুচ্ছ!’
বেরোবি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) ইজার আলী বলেন, ‘শনিবার রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়েটির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, মেস মালিক সমিতির সভাপতির উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে শাহনাজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি।’
ছাত্রীনিবাসটিতে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার বেলা ৩টা থেকে শাহনাজের রুমের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। বিকেল পেরিয়ে রাত হলেও শাহনাজ দরজা না খোলায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে বান্ধবীরা দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে পেছনের জানালা দিয়ে দেখতে পান শাহনাজ ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন।
এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীর পরিবার ময়নাতদন্ত চায়নি। তারা মেয়ের লাশ চেয়েছে। পরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে।