চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে গাড়ি ঘোরানো নিয়ে বাড়াবাড়ি করে প্রতিবেশীকে হত্যার ঘটনায় আরাফাত উদ্দিন (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে রবিবার নিহত খোরশেদ আলমের (৩৭) স্ত্রী শামীমা আক্তার বাদী হয়ে আরাফাত উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে সীতাকুন্ড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিন সন্তানকে নিয়ে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন সিএনজি অটোরিকশা চালক খোরশেদ ও তার স্ত্রী।
ডায়রিয়াজনিত কারণে তিন দিন আগে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে আসেন খোরশেদ। তাদেরকে ঘরে রেখে প্রাইভেটকারের ভাড়া পরিশোধ করতে বাইরে যান তিনি।
এ সময় আরাফাতের ঘরের সামনে থেকে কারটি ঘুরাচ্ছিলেন কারের চালক জসিম।
তখন আরাফাত চালককে তার ঘরের সামনে গাড়ি ঘোরাতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে খোরশেদের সাথে আরাফাতের সামান্য কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে।
এরপরেই তিনি ঘর থেকে একটি বটি নিয়ে এসে খোরশেদুল আলমের ঘাড়ে কোপ দিয়ে বটি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান।
খোরশেদুল আলম বটিটি নিয়ে ঘরের দিকে কিছু দূর এসে চিৎকার করলে তার ভাই ও প্রতিবেশীরা এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পথে তার মৃত্যু হয়।
আরাফাত মানসিকভাবে একটু বিকারগ্রস্ত বলে এলাকাবাসী জানান। তিনি কথায় কথায় মানুষকে হত্যার হুমকি দিতেন।
প্রাইভেটকারের চালক জসিম বলেন, আরাফাত গাড়ি ঘোরাতে নিষেধ করলে তার উগ্র মেজাজ দেখে আমি প্রথমে পেছনে চলে আসতে চাই। তখন খোরশেদ আমাকে সেখান থেকেই গাড়ি ঘোরাতে বললে আরাফাতের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে অতর্কিত এসে আরাফাত খোরশেদকে পেছন থেকে ঘাড়ে কোপ দেয়।
এদিকে হত্যার খবর পেয়ে সীতাকুন্ড থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ও ওসি (তদন্ত) সুমন বণিকসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সেকেন্ড অফিসার এসআই টিবলু মজুমদার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরাফাত হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সোমবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।