প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সরকারি সফরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আছেন। এই সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।
সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তিনি আমার বোনের মতো। আমি এবার দিল্লিতে তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। কী করা যেতে পারে? তবে তার সঙ্গে তো যে কোনও সময়েই আমার দেখা হতে পারে!
দিল্লিতে দেখা করার আশা জানিয়ে এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ওই চিঠিতে তিনি পদ্মা সেতু দেখার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। মমতার সঙ্গে আলোচনায় বসাটা বাংলাদেশের আসন্ন ভোটে আওয়ামী লীগের পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আলাদা সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারত সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমাদের সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায়।
এর আগে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গঙ্গা ছাড়াও আমাদের আরও ৫৪টি নদী রয়েছে। তাই গঙ্গার পানি ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যারও সমাধান হওয়া উচিত।