দেশের ২১ জেলার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া ঘাটে আগের মতো এখন আর যানবাহন ও যাত্রী চাপ নেই। আগে যেখানে প্রতিদিন চার-পাঁচ কিলোমিটার যানবাহনে দীর্ঘ সারি দেখা যেত, সেখানে ঘাট এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ না থাকায় ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে। ঘাটের চিত্র এই ভাবে বদলে যাবে তা কেউই ভাবেনি।
২৫ জুন বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন কমে যায়। বর্তমানে ঘাটের পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এই ঘাটে সাধারণ যাত্রী কি পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। সড়কে নেই আগের মত যানবাহনের সিরিয়াল। যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা অপেক্ষায় না থেকে মুহূর্তের মধ্যে পেয়ে পাচ্ছেন ফেরির নাগাল। আগে যেখানে প্রতিনিয়ত এ ঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল থাকত।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কেও কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের লম্বা সিরিয়াল লেগে থাকত। অথচ সেই ঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে ফেরির জন্য যাত্রী ও যানবাহন অপেক্ষা করত, সেখানে ফেরি এখন যাত্রী ও যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।
গত কয়েক দিন ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাট একবারেই ফাঁকা। টিকিট কাউন্টারের সামনে নেই তেমন কোন তৎপরতা। গাড়ির চালক বা সহকারীরা স্বাচ্ছন্দে ফেরির টিকিট কেটে ফেরিতে উঠছে। অধিকাংশ ঘাটগুলোতেই যানবাহনের জন্য ফেরিগুলো অপেক্ষা করছে।
ফেরির সিডিউল অনুযায়ী আগে একটি ফেরি লোড ও আনলোডে সময় নিত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট, সেখানে একটি ফেরি লোডিং হতে সময় লাগছে ৪০ মিনিটের বেশি, অনেক সময় ফেরিগুলো পরিপূর্ণ যানবাহন না নিয়েই যাচ্ছে গন্তব্যে দিকে।
কথা হয় স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে। তারা জানায়, ঘাটের এমন চিত্র হবে আমরা ভাবি নাই, মাস খানেক আগেও ঘাটে যে ভীড় ছিলো তা এখন আর নেই। আগের মত সেই যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয় না, আমরা ভেবেছিলাম পদ্মা সেতু চালু হলে চাপ কিছুটা কমবে কিন্তু এইভাবে কমে যাবে তা কেউই আশা করেনি।
৫ নং ফেরিঘাটের চা দোকানি জিলাল বলেন, এখন গাড়ি নেই বললেই চলে। দুপুরের পর কিছু পণ্যবাহী ট্রাক আসে। সারা দিন গাড়ির চাপ না থাকায় আমাদেরও বেচাকেনা নেই। আগে প্রতিনিয়তি ঘাট এলাকাসহ মহাসড়ক ব্যস্ত ছিল। পদ্মা সেতু চালুর পর ঘাটে যানবাহনের চাপ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এর ওপর আবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দুই দফায় ফেরির ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যানবাহনের সংখ্যা আরও কমে গেছে। আমরা এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তার আছি।
পারাপার হতে আসা যাত্রীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, আগে যেখানে ৪/৫ ঘণ্টা ঘাটে এসে অপেক্ষা করতে হত। এখন আর সেটা নেই, চাপ কম থাকায় ফেরি অনেক দেরি করে ছাড়ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, সেতু চালুর আগের পরিসংখ্যান যদি দেখি, আগে ২৪ ঘণ্টায় শুধু দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার যানবাহন নদী পাড়ি দিত। এখন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো গাড়ি পার হয়।
বর্তমানে এ নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি ফেরি রয়েছে। এরমধ্যে ছোট-বড় ১০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করানো হচ্ছে। যানবাহনের চাপ কম থাকায় ৬টি ফেরি বসিয়ে রাখা হয়েছে।