স্ত্রীকে খুনের ১৬ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উজ্জ্বল প্রামাণিককে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৬ সালের ১ আগস্ট গৃহবধূ আলো বেগম খুন হন। র্যাব জানিয়েছে, আত্মগোপনের ১৬ বছরে পরিচয় গোপন করে ফের বিয়ে করেন উজ্জ্বল। তার দুই সন্তানও রয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান র্যাব-৩-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বগুড়া সদর থানার কৈচড় দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল প্রামাণিকের সঙ্গে ২০০৬ সালের জুনে ভুক্তভোগী আলো বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের দিন উজ্জ্বল ও তার পরিবারকে নগদ ৩০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। বিয়ের পর বিদেশ যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন উজ্জ্বল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আলো বেগমকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান উজ্জ্বল। বিয়ের দুই মাসের মাথায় ২০০৬ সালের ১ আগস্ট উজ্জ্বলের ভগ্নিপতি নাজমুল হোসেন লাবু আলো বেগমের পরিবারকে ফোনে জানান আলো গুরুতর অসুস্থ। আলো বেগমের পরিবারের লোকজন উজ্জ্বলের বাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে তার মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় আলো বেগমের দুলাভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম বুলু বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৪ জুলাই বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১উজ্জ্বল প্রামাণিককে মৃত্যুদণ্ড দেয়। র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর উজ্জ্বল প্রামাণিক তার মা আলেয়াকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে পরিচয় গোপন রেখে বসবাস শুরু করেন। ছয় মাস পর নাছিমা খাতুন নামে একজনকে বিয়ে করে গাজীপুরে বসবাস করে আসছিলেন। তাদের সংসারে ১০ ও ৩ বছর বয়সী দুই ছেলেও রয়েছে। উজ্জ্বল পালিয়ে আসার পর থেকে বগুড়ায় নিজ বাড়ি ও তার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে গাজীপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন।