খুলনায় উড়োজাহাজের টিকিট ব্যবসায় দুর্দিন

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে খুলনায় উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রি কমছে। খুলনা-যশোর থেকে ঢাকার উড়োজাহাজের যাত্রী কমতে থাকায় তাদের ব্যবসায়ও দুর্দিন শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকিট এজেন্সিগুলো তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নেওয়ারও চিন্তা করছে।

উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রির কয়েকটি এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বাস কোম্পানিগুলো এসি, নন-এসি, বিজনেস ক্লাস এসি, এসি ডাবল ডেকারসহ দৃষ্টিনন্দন ও আরামদায়ক বাস সার্ভিস চালু করেছে। সেতু চালুর আগে যশোর বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন (ডমেস্টিক) ১৫টি উড়োজাহাজ চলাচল করত। এর মধ্যে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ৬টি, নভো এয়ারের ৬টি এবং বাংলাদেশ বিমানের ৩টি। কিন্তু বর্তমানে ইউএস বাংলার ৩টি, নভো এয়ারের ২টি ও বাংলাদেশ বিমানের ২টি উড়োজাহাজ যাত্রী পরিবহন করছে। ইতিমধ্যে নভো এয়ার খুলনা থেকে যশোর বিমানবন্দর পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেওয়ার বাস সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে।

খুলনার রয়্যাল মোড় এলাকার নাঈম এয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. নাঈম জানান, আগে প্রতিদিন ৬-৭টি ডমেস্টিক টিকিট বিক্রি হতো। এখন এমনও দিন যাচ্ছে যে ১টি টিকিটও বিক্রি হয় না। সপ্তাহে ২/১টি বিক্রি হয়। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাত্রী একেবারে নেই বললেই চলে। কোনোভাবে ব্যবসা চলছে।’

মডার্ন ফার্নিচার মোড় এলাকার মোল্লা ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মোল্লা সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের (ডমেস্টিক) টিকিটের ওপরেই মূলত আমরা নির্ভরশীল ছিলাম। আগে ১০/১২টি ডমেস্টিক টিকিট বিক্রি হতো। এখন একেবারে নেই বললেই চলে। সামনে এই ব্যবসার কী হবে জানি না।’

নভো এয়ারের খুলনার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে খুলনা থেকে যশোর বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহনের বাস সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে। ইউএস বাংলার স্টেশন ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মূলত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর খুলনা-যশোর থেকে ঢাকার যাত্রী কমেছে। আগের থেকে ফ্লাইট অর্ধেকে নেমেছে। তবে এই সংকট কেটে যাবে এবং আবার যাত্রী বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।