সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের প্রতিদিন হোটেল থেকে এনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, এখানে রুই মাছের পরিবর্তে পাঙাশ আর খাসির মাংসের পরিবর্তে সরবরাহ করা হয় ব্রয়লার মুরগির মাংস।
এ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, এ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রতি রোগীর মাথাপিছু খাবার বাবদ বরাদ্দ ১২৫ টাকা। এরমধ্যে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন নির্ধারিত পরিমাণ ও মানসম্মত খাবার সরবরাহ না করে তাদের ইচ্ছেমতো হোটেল থেকে আনা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এদিন এ হাসপাতালে ১১১ রোগী ভর্তি। এর মধ্যে ১০৪ রোগীর জন্য হোটেল থেকে পাঙাশ ও সিলভারকার্প মাছের তরকারি ঠিকাদারের লোকজন নিয়ে এসেছে। এদিন দুপুরে রোগীদের জন্য বরাদ্দ ছিল রুই মাছ। তার পরিবর্তে সরবরাহ করা হয়েছে পাঙাশ মাছ।
দশ দিন ধরে ভর্তি রোগী শান্তা বেগম (৭০), আসাদুজ্জামান (৫৫), আয়েব আলী (৫০), সাইদুল ইসলাম (৬৫) অভিযোগ করে জানান, রোগীদের প্রায় দিন দুপুরেই খাবারে পাঙাশ মাছ দেওয়া হয়। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য যে পরিমাণ খাবার বরাদ্দ তার অর্ধেকও সরবরাহ করা হয় না। যেদিন খাসির মাংস বরাদ্দ থাকে সেদিন খাসির মাংসের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির মাংস। আর যেটুকু তরকারি দেওয়া হয় তা দিয়ে অর্ধেক ভাতও খাওয়া যায় না। আর সরবরাহকৃত তরকারি এতই নিম্নমানের যে, তা মুখে দেওয়া যায় না। তার স্বাদ পাদ নেই বললেই চলে।
ভর্তি রোগীরা আরও জানান, সপ্তাহের দুদিন পোলট্রি মুরগি ও বাকি দিন পাঙাশ মাছ দেওয়া হয়। দুপুরে যে তরকারি দেওয়া হয় রাতেও থাকে ওই তরকারিই। অথচ শিডিউলে সপ্তাহের দুই দিন খাসির মাংস দেওয়ার কথা।
এ হাসপাতালে ভর্তি রোগী আবদুস সামাদ (৫৫) বলেন, শনিবার রোগীদের মুরগির মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। তার পরিবর্তে দেওয়া হয় পাঙাশ মাছ। পুরো সপ্তাহেই এ অনিয়ম করা হয়।
ভর্তি রোগীর আত্মীয় শরিফুল ইসলাম বলেন, সকালের নাশতায় ১০০ গ্রাম ওজনের পাউরুটি দেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে কম ওজনের পাউরুটি সরবরাহ করা হয়। ২০০ গ্রাম ভাত দেওয়ার কথা থাকলেও তার চেয়ে কম দেওয়া হয়। ডাল ও সবজির পরিমাণ কম দেওয়া হয়। সিভিডি রোগীদের দুধ, চিনি পরিমাণ মতো দেওয়া হয় না।
এসব বিষয়ে গতকাল শুক্রবার শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদার ও সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক মুঠোফোনে বলেন, একটু সমস্যা হয়েছিল। এখন মিটে গেছে।
এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস খায়রুল আতাতুর্ক বলেন, তিন বেলা খাবার বাবদ ১২৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তার মধ্যে ১৮ টাকা সরকারি ভ্যাট কেটে নেওয়া হয়। এ কারণে ঠিকাদারের খাবার সরবরাহের সমস্যা হচ্ছে।
হোটেল থেকে খাবার নিয়ে রোগীদের পরিবেশন করার বিষয়ে তিনি বলেন, রোগীদের খাবার রান্না করার জন্য এ হাসপাতালে কোনো ঘর ছিল না। আমি এসে রান্নাঘর তৈরি করেছি। গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেছি। আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই এ হাসপাতালের রান্নাঘর চালু করা সম্ভব হবে।