অসাম্প্রদায়িক শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিজনরা। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশে সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করতে সরকারের আরও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এর আগে একাত্তরের পরাজিত শক্তিদের হাত থেকে দেশের সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।
‘সংস্কৃতির শক্তিতে জেগে উঠো বাংলাদেশ’ সেøাগানে গতকাল শুক্রবার জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও জাতীয় কাউন্সিলে এ আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশবরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনের নেতৃত্বে জাতীয় সংগীত পাঠ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ এর সভাপতিত্ব করেন।
সমাজবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রামে সাংস্কৃতিক জোট প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক অনুপম সেন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা সবচেয়ে তেজোদ্দীপ্ত, প্রাণবন্ত ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ। কথা-কবিতা, গান, আবৃত্তি ও নাটকে তাদের যে প্রতিবাদ, তা কখনো বৃথা যেতে পারে না। তাদের কণ্ঠে যে বিদ্রোহের গান, তা কোনো দিন ব্যর্থ হবে না।’
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আজ সারা দেশে যে সংস্কৃতিবিমুখতা, তা কীভাবে দূর করব? আজ সারা দেশে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, তাতে শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাতে হবে। একুশ বছর ধরে বাংলাদেশ যে উল্টো পথে হাঁটছে, তার বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা কি আমাদের মতো করে বাংলাদেশকে পুরোপুরি সাজিয়ে ফেলতে পেরেছি? এটা একধরনের ব্যর্থতা।’
রামেন্দু মজুমদার বলেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, সে তার প্রতিবাদী চরিত্র হারিয়েছে। আমরা সরকারের সুকৃতির গুণগান যেমন গাইব, তেমনিভাবে যেকোনো অন্যায়ের জোর প্রতিবাদও জানাতে হবে, সমালোচনা করতে হবে। সারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে একটি সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন করতে হবে, যেখানে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আজ আমাদের জোটের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, আমরা নাকি সরকারের দালাল। আজ কোনো কর্মসূচি দিলে আওয়ামী লীগ বলে, আমরা বামের দালাল, বামেরা বলে আওয়ামী লীগের। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আমরা কারও দালাল নই; আমরা মুক্তিযুদ্ধের দালাল। আজকে রাষ্ট্রকাঠামোর সব স্তরে যখন সাম্প্রদায়িক শক্তি ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি যখন ঘাপটি মেরে আছে, তার প্রতিবাদে সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক মহাজাগরণের মহা প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।’
অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সংস্কৃতিজন মামুনুর রশিদ, মফিদুল হক, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সারা যাকের এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও সদস্য সচিব মো. আহকাম উল্লাহ্।