কুবিতে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ

নিরুদ্বেগ প্রশাসন, শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর হাতাহাতি-মারামারিতে জড়িয়ে যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে দফায় দফায় সংঘর্ষ হলেও সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই। প্রশাসনের এই নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ফের সংঘর্ষের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি মিটিং ডেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষকদের ও ছাত্রদের একটি অংশ ইন্ধন দিচ্ছেন বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী সেলিম রেজাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলে কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল রায়হান। নামাজ শেষে রায়হানের কাছে বিষয়টি জানতে চায় বঙ্গবন্ধু হলের সেলিম রেজা, রিফাতসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। এ সময় দুই হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উভয়পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ দু‍‍ই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদাৎ মো. সায়েম, বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগকর্মী ইকবাল, রাকিব, অনুপ দাশ, সোহাগ, নজরুল হলের সাকিব হাসান দীপ, আশরাফুল রায়হানসহ দুইপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে হলে ফিরে আসেন।

এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানায়। কিন্তু, এক্ষেত্রে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

একই ঘটনার জেরে শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠি, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। ইট পাটকেলের আঘাতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাহি বলেন, সামান্য একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু হল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা এর বিচার চান এবং যারা এসবের সাথে জড়িত তাদের বহিষ্কার চান।

এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শাখা ছাত্রলীগ। তবে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র এমন ঘটনার পেছনে একটি গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, 'এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এখন দুই হলের নেতাদের সাথে সিনিয়র নেতারা বসে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটি নিয়ে কথা বলব। প্রয়োজনবোধে প্রশাসনকেও ব্যবস্থা নিতে বলব।'

ইন্ধনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ রকম তুচ্ছ ঘটনা এতো বড় হওয়ার পিছনে তো কারো না কারো ইন্ধন রয়েছে। এখানে ছাত্রদের ও শিক্ষকের মধ্যে থেকে এবং বহিরাগত যারা অবাঞ্চিত কিছু লোক ইন্ধন দিতে পারে।' 

এ বিষয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, 'আমরা দুপুরে পুলিশ প্রশাসন সাথে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। রাতে পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করবে। আগামীকাল হল প্রশাসনসহ শিক্ষার্থীদের সাথে বসবে প্রক্টরিয়াল বডি।'

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সংঘর্ষে হতাহতদের কথা বিবেচনা করে রবি ও সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

সভার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এফ এম  আবদুল মঈন বলেন, 'যেহেতু অনেকে আহত তাই আগামীকাল ও পরশুদিনের পরীক্ষা পেছনে যাবে।'

ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে তাদের ডেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে বলে। যেন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তা না হলে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি করে কারা জড়িত, কারা ইন্ধন দিছে তা জেনে প্রশাসন সরাসরি অ্যাকশনে যাবে। যারা আহত হয়েছেন তাদের দেখতে যাচ্ছি। যদি ব্যয়ভার বহন করতে হয় তাহলে আমরা করব।'