শিক্ষক স্বল্পতায় বেহাল দশা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। এরমধ্যে ৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া অন্তত ৩৬টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে সুষ্ঠু পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৩২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ২-৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সহকারী শিক্ষকরা। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। শিক্ষক শূন্যতার কারণে স্থানীয় অভিভাবকরাও তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন বশির বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব সম্পাদন করা হচ্ছে সহকারী শিক্ষক দিয়ে। এতে ক্লাসে নিয়মিত পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। মানসম্মত পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।’
মধ্য লোহাগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীন আক্তার জানান, তিনি দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি আরেকজন শিক্ষক প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সুখছড়ী রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে রয়েছে ভারপ্রাপ্ত। এছাড়াও ২ জন শিক্ষিকা রয়েছেন ছুটিতে। ভারপ্রাপ্তসহ বর্তমানে মাত্র ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এত কম শিক্ষক দিয়ে পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবরান আল জামী ও তাহমিনা আক্তার জানায়, শিক্ষক না থাকার কারণে অনেক সময় তাদের ক্লাস হয় না।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, ‘লোহাগাড়ায় ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে শিক্ষকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম কবির বলেন, ‘৬৮ জন শিক্ষকের শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।’