শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতারোধে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ২ জন কাউন্সেলিং-শিক্ষক রাখা হবে। এজন্য সারা দেশে ২ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
গতকাল রবিবার দুপুরে চাঁদপুরের হাইমচরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। সবসময় তারা সঠিক তথ্য পায় না। তাদের বাবা-মায়েরা বোঝায় না, স্কুলেও পাঠ্যবইয়ে যা আছে তা ঠিকমতো জানানো হয় না। করোনার দুই বছর শিক্ষার্থীরা নানা ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। ইন্টারনেটেও কিছু গেম আছে, যা মানসিক বিক্ষিপ্ততার কারণ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশে^ই কমবয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।
দীপু মনি বলেন, হেল্পলাইনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রবণতারোধে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ২ জন কাউন্সেলিং শিক্ষক রাখা হবে। এ জন্য সারা দেশে ২ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো দূর করতে পারব।
অভিভাবকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘বাবা-মায়েদের বলব, এ বয়সী ছেলেমেয়েরা অনেক সংবেদনশীল। তাই সংবেদনশীল মন নিয়েই তাদের সমস্যাগুলোকে দেখতে হবে। মেয়েরা অনেক সময় ইভটিজিংয়ের শিকার হয়। এ সমস্যার কথা যদি পরিবারের কাছে বলতে পারা না যায়, তাহলে শিক্ষকদের কাছেও বলতে পারা যায় না। তখন চাপা আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে আত্মহননের মধ্য দিয়ে। আমরা যেন আমাদের সন্তানদের সঙ্গে কথা বলি। সমস্যা অনুধাবনের চেষ্টা করি। শুরুতেই যেন সন্তানদের দোষারোপ না করি।’
অনুষ্ঠানে ২২৫ জন নদীভাঙনের শিকার পরিবারের মাঝে ৬৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন তিনি। এর আগে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান, হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ূন প্রধানীয়া, হাইমচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারীসহ প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।