সব স্কুলই নালন্দার মতো আনন্দ নিকেতন হয়ে উঠুক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, শিশুকাল থেকে শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি বোধ জাগ্রত করতে পারলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পূর্ণ বাঙালি হয়ে যথার্থ মানুষ হওয়ার পথে অগ্রসর হবে।
রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেরানীগঞ্জের বড় মনোহরিয়া গ্রামে ছায়ানটের সংস্কৃতি সমন্বিত সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের অপালা ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো ছিল শিশুদের নৃত্য, ব্রতচারী পরিবেশনা, ভাষণ এবং তাদের আঁকা ছবি ও বিষয়ভিত্তিক কাজের প্রদর্শনী। ব্রতচারী পরিবেশনার মাধ্যমে শিশুরা শাশ্বত বাঙালি হয়ে বিশ্ব মানব হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অসম্ভব সুন্দর একটি অনুষ্ঠান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখলাম, শুনলাম, উপভোগ করলাম। তারা এত সুন্দর করে গাইল, নাচল। পুতুল নাচের মধ্য দিয়ে আমাদের জাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করল আমরা কোন ভুল পথে হাঁটছি, আমাদের পরিবেশ ও পৃথিবী নিয়ে। কেমন করে তাকে ঠিক করতে হবে। আমার শিক্ষার্থী বন্ধুদের প্রতি অনেক অনেক ভালোবাসা।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের সংস্কৃতি বিধ্বংসী আঘাতের পর ছায়ানট অনুধাবন করে কেবল সংস্কৃতি চর্চা করে মানুষের চিত্তকে জাগানো যায় না। শিশুকাল থেকে শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি বোধ জাগ্রত করতে পারলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পূর্ণ বাঙালি হয়ে যথার্থ মানুষ হওয়ার পথে অগ্রসর হবে। ওই ভাবনা থেকেই ছায়ানট নালন্দা বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংস্কৃতি সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম হাতে নেয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতির যাত্রাপথকে এই শিক্ষাদর্শন মসৃণ করে তুলছে।
মন্ত্রী বলেন, শিশুরা তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে মানব কল্যাণে কাজ করা ও শাশ্বত বাঙালি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে- শিক্ষার এমনই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সব স্কুলই নালন্দার মতো আনন্দ নিকেতন হয়ে উঠুক।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বতন্ত্র শিক্ষাদর্শের একটি সমন্বিত রূপ অনুসরণ করছে নিবন্ধিত উচ্চ বিদ্যালয় নালন্দা।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, নালন্দার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সারা বাংলাদেশে হওয়া উচিত।
ছায়ানটের নালন্দা কার্যক্রমের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে না হোক অন্তত বড় বড় শহরগুলোতে নালন্দার শাখা হওয়া দরকার। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি যে এ ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করব।
নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, এখানে শাশ্বত বাংলার একটি রূপ দেখছি। কিন্তু এইরূপ সারা বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চা আগের মত নেই। উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ, শাশ্বত বাংলার যে রূপ আমরা এখানে দেখলাম তা সারা বাংলাদেশে দেখতে চাই। দেশ উন্নত হচ্ছে এ জন্য গর্ববোধ করি। দেশের কোন কোন জায়গা দেখলে মনে হয় আফগানিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মভিত্তিক কোন রাষ্ট্র। মানুষের বেশভূষা বদলে গেছে। আবহমান বাংলার সংস্কৃতি আর নাই। কোন কোন অনুষ্ঠানে দেখা যায় ছোট্ট শিশুরাও আপাদমস্তক ঢেকে বসে থাকে শুধু চোখ দুটো দেখা যায়। তখন আমরা সত্যি সত্যিই ভীষণ ঘাবড়ে ঘাবড়ে যাই। এ কোন সংস্কৃতি এখানে।
প্রধান শিক্ষক সুমনা বিশ্বাস বলেন, নালন্দা সর্বতোভাবে একটি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। এর কাজ শিশু সেবার মধ্য দিয়ে দেশ সেবা। আমরা এই দায়িত্ব নিয়ে নালন্দায় যুক্ত হয়েছি। শিশুর প্রতি সৎ থেকে জীবনের প্রতি সমাজের প্রতি সৎ হতে শিখব। আমরা বাংলাকে একটি পরার্থপর দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
সবারে করি আহ্বান, এসো উৎসুকচিত্ত, এসো আনন্দিত প্রাণ- গানের মাধ্যমে সবাইকে স্বাগত জানান ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা। তারপর তিনি নালন্দা গড়ে ওঠার দীর্ঘ পরম্পরা তুলে ধরেন।
ছায়ানটে সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, সংস্কৃতি সমন্বিত শিক্ষাই আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ। যে ভাবনা নিয়ে আমরা মুক্তিসংগ্রাম করেছিলাম সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারব কেবল এই সংস্কৃতি সমন্বিত শিক্ষাদানের মাধ্যমে।
সবশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. সারোয়ার আলি শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, সংস্কৃতি সমন্বিত এই শিক্ষা শুধু নালন্দায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।