প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে উৎপাদিত সামগ্রী যাচ্ছে বিদেশে

কুড়িয়ে আনা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্যে মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নে উৎপাদিত হচ্ছে সুতাসহ প্লাস্টিকসামগ্রী। ইতিমধ্যে ওই ইউনিয়নে সাত থেকে আটটি কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে সুতা, প্লাস্টিকের চেয়ার, রকমারি খেলনা, বালতি ও হ্যাঙ্গার উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত এমফ প্লাস্টিকসামগ্রী দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি যাচ্ছে ভারত, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। একদিকে, পরিত্যক্ত বর্জ্য কাজে লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত সামগ্রী দেশের বাইরে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বস্তা, পলিথিনসহ অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য কুড়িয়ে আনে একদল নারী ও শিশু। বসতবাড়ি ও সড়কের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে এসব সংগ্রহ করেন তারা। এরপর পঞ্চসার ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি, পঞ্চসার, জোড়পুকুর পাড় ও রামেরগাঁও গ্রামে গড়ে ওঠা কারখানাগুলোতে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে সুতা ও প্লাস্টিকসামগ্রী উৎপাদন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকসামগ্রীগুলোকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করা হচ্ছে। এরপর মেশিনের সাহায্যে সেগুলো গলিয়ে গোলাকার ‘চাক’ তৈরি করা হয়। পরে ওই গোলাকার ‘চাক’ মেশিনের মাধ্যমে কেটে গুটি তৈরি করা হয়। এসব গুটি থেকেই সুতা, চেয়ার, বালতি, খেলনাসহ প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদন করা হচ্ছে।

পঞ্চসার গ্রামের শেফালী এন্টারপ্রাইজের মালিক মুক্তার হোসেন প্রায় আট বছর আগে কারখানা গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। মুক্তার হোসেন বলেন, ‘যেসব প্লাস্টিক বর্জ্য মানুষ ফেলে দেয়, ময়লা-আবর্জনা থেকে লোক দিয়ে সেগুলো কুড়িয়ে সংগ্রহ করি। এরপর সেগুলো থেকে সুতাসহ প্লাস্টিকের নানা সামগ্রী উৎপাদন করি। কারখানা দেওয়ার শুরুতে অনেক লাভ হতো। এখন বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদিত প্লাস্টিকসামগ্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকি। এ ছাড়া এসব সামগ্রী দেশের বাইরে চীন, ভারত ও মালয়েশিয়াতেও রপ্তানি হয়ে থাকে।’

মেসার্স সোহেল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সোহেল মাদবর বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলাম। দেশে ফিরে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের কারখানা দিয়েছি। বর্জ্য কিনে এনে রিসাইকেল করে প্লাস্টিকের বালতি, হ্যাঙ্গার ও সুতা উৎপাদন করে থাকি।’

ইবাদত ফাইবারের মালিক রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমরা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইকেল করার মাধ্যমে পরিবেশ সুন্দর রাখার পাশাপাশি সুতা ও প্লাস্টিকের সামগ্রী উৎপাদন করে আসছি। আগে এ ব্যবসা ভালো ছিল। বর্তমানে বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ঋণ দরকার। সরকার ঋণ দিলে ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে এ কারখানা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।’

মুক্তারপুরের মুন্সীগঞ্জ বিসিকের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘এখানে প্লাস্টিক রিফাইন করার বেশকিছু কারখানা গড়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিফাইন করে কারখানাগুলোতে। যা পরিবেশের জন্য ভালো। সরকারের উচিত এদের প্রণোদনা দেওয়া। ইতিমধ্যে ৩টি কারখানা মালিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদের ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছি।’