২৮ বছর আগে কিশোর হত্যা

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হাইকোর্টে খালাস

২৮ বছরের বেশি সময় আগে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এক কিশোর হত্যা মামলায় ছয় বছর আগে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। সর্বোচ্চ দ-ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল মঞ্জুর ও ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে গতকাল সোমবার এ রায় দেয় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৪ সালের ১৩ মে বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ছেলে জিয়াউল হককে (১৩) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন পচাসিংদা গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কিশোরের মা রূপচাঁন বিবি স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা করেন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর অভিযোগ গ্রহণ করে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে রায় দেয় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে বানিয়াচং উপজেলার টুপিয়াজুরি গ্রামের আলী হায়দার, একই গ্রামের আবদুল আহাদ, আগুয়া গ্রামের রেনু মিয়া, একই গ্রামের হাবিব মিয়া ও রঞ্জু মিয়াÑ এ পাঁচজনকে মৃত্যুদ- দেয় আদালত। এরপর মৃত্যুদ- অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। তবে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আবদুল আহাদ আপিল নিষ্পত্তির আগে কারাগারে মারা যান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম আশরাফুল হক জর্জ। আসামি হাবিব ও রেনু মিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যা মামলায় লাস্ট সিন গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ঘটনার আগে ভুক্তভোগী কোথায় কার সঙ্গে ছিলেন। এ মামলায় সাক্ষীরা যা বলেছেন তাতে তাদের বক্তব্যের অসংগতিগুলো তুলে ধরে বলেছি এ ঘটনায় চাক্ষুস কোনো সাক্ষী নেই। আদালত খালাসের রায় দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশরাফুল হক জর্জ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরেছি। আদালত বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে সাক্ষীরা প্রমাণ করতে পারেননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে।’