জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে কাগজপত্রে মৃত দেখিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।

 ভুক্তভোগী ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. আবুল হোসেন। তিনি উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তরফরাম ঘুনিপাড়া গ্রামের মো. বদর উদ্দিন মিয়ার ছেলে।

বয়সের কারণে তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বর্তমানে বেকড়া ইউনিয়নের মুশুরিয়া গ্রামে তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি এখনো অবিবাহিত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্বাধীনতার পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে থাকতে হয়েছে। ১৯৮০ সালে ছুটিতে এসে আর চাকরিতে যোগদান করেননি তিনি।

কিছুদিন পর তিনি ভারতে চলে যান। ভারতে যাওয়ার আগে তার যাবতীয় কাগজপত্র তার মায়ের কাছে রেখে যান। গত তিন বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন। মা জীবিত না থাকায় বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে তার কাগজপত্রের খোঁজ নেন।

দেশে এসে তিনি জানতে পারেন কাগজপত্রে তিনি মৃত। পরিবারের সবাই তাকে মৃত জেনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যু সনদও তুলেছেন। তিনি আরও জানতে পারেন তাকে মৃত দেখিয়ে তার নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তার বাবার মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের সেনা গেজেট নং ৭০৮৪। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবলিত তালিকায় ঢাকা বিভাগ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় তার ক্রমিক নং ৫২১ ও পরিচিতি নম্বর ০১৯৩০০০৭৫৬৮।

এলাকার একটি কুচক্রী মহল তার বাবাকে ভুল বুঝিয়ে এ কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই কাজের সাথে নাগরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার সুজায়েত হোসেন ও হানিফ খান জড়িত আছেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, আমাকে মৃত দেখিয়ে যারা ভাতা উত্তোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে তিনি তার ভাতা নিজের নামে ইস্যু করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার সুজায়েত হোসেন জানান, আবুল হোসেন নামে তিনি কাউকে চিনতেন না। একদিন পূর্বে তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি দায়িত্বে নেই তবু মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই কাজ করছেন। কাজ করতে গেলে একেকজন একক কথা বলবে এটা স্বাভাবিক। তবে আবুল হোসেন যেহেতু জীবিত আছেন সেহেতু তিনি ভাতা কমিটির কাছে আবেদন করে যাবতীয় প্রমাণ দাখিল করতে পারলে বিষয়টি সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।