দুবাই বা সিঙ্গাপুরে ক্যাম্প বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। টি-টোয়েন্টি মানসিকতায় তিনদিন তিনটি ম্যাচ প্র্যাকটিস। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে বৃষ্টি। সমুদ্রে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দুইদিন বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। তাতে ম্যাচ প্র্যাকটিস সম্ভব হয়নি। তাই দেশের বাইরে একটি ক্যাম্প করার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। এই ক্যাম্পেই বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দলের ক্রিকেটাররা থাকবেন। সেখানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গাটা পাকা সাকিব আল হাসান অধিনায়ক থাকায়। সাকিবের কাছে অভিজ্ঞরা বরাবরই গুরুত্ব পাবেন। তবে মাহমুদউল্লাহ নিজে অবসর নিতে চাইলে ত্রিদেশীয় সিরিজে যে কোনো ম্যাচে সুযোগটা করে দেবে বিসিবি।

বিশ্বকাপের জন্য সাকিবদের দেশ ছাড়ার কথা ৩০ সেপ্টেম্বর। তা এগিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল। এখন ক্যাম্পের জন্য আরও দুই দিন এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। দেশ ছাড়ার বিষয়টি নির্ভর করছে ক্যাম্প করার জন্য উক্ত দেশের সবুজ সংকেতের ওপর। ওই দেশের সঙ্গে সবকিছু ঠিক হলে বাংলাদেশ দলের দেশ ছাড়ার দিনটি ঠিক হবে। বিসিবির সম্ভাব্য পছন্দ সিঙ্গাপুর বা দুবাই। নিউজিল্যান্ড যেতে এই দুটি শহরে ট্রানজিট নিতে হয়। তাই দুই শহরের কোনোটিতে সপ্তাহ খানেকের ক্যাম্প করে সেখান থেকে সরাসরি নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। অবশ্য সব কিছুই ঠিক হবে ওই দেশের কাছ থেকে কতটুকু অনুশীলন সুবিধা পাওয়া যায় তার ওপর। এশিয়া কাপ দেখতে বেশ কয়েকদিন দুবাই অবস্থান শেষে গতকাল দেশে ফিরে বিষয়গুলো জানালেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন।

আরও একটি যে বিষয় আলোচনাধীন তা হলো মাহমুদউল্লাহর অবসর। মুশফিকুর রহিম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে না থাকার আভাস পেয়ে নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন। বিসিবি প্রধানের চোখে এমনটা হওয়া উচিত নয়। ‘যদি ও (মাহমুদউল্লাহ) অবসর নিতেই হয় বা ওকে যদি দলের স্কোয়াডে জায়গা না দিতে পারি অবশ্যই ওকে (মাঠ থেকে অবসরের) সুযোগ তো দেওয়া উচিত। কারণ মাহমুদউল্লাহর অবদান তো খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। প্লেয়াররা নিজেরা ঘোষণা না করে যদি আমাদের জানায় তাহলে আমরা চেষ্টা করব সম্মানের সঙ্গে ওদের অবসরের সুযোগ করে দেওয়ার।’ তবে অধিনায়ক সাকিবের চাওয়া কিন্তু মূল দলে অবসর না নেওয়া অভিজ্ঞরা থাকবেন। বিশ্বকাপের দলে ১৫ জনের বেশি নেওয়া যাবে না। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাড়তি ক্রিকেটার খেলতে পারেন। বিশ্বকাপ দলে না থাকলে মাহমুদউল্লাহর এই সিরিজেই অবসর নেওয়ার সুযোগ।

বিশ্বকাপের পর এমনিতেও দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা ক্রিকেটারের অবসর নিতেই হবে। কারণ বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে পরের বিশ্বকাপের দিকে। কাল বিসিবি প্রধান জানালেন পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দল গোছাচ্ছেন। তাই ২০২২ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আশা কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়। পাপন বলেন, ‘আমরা আসলে টি-টোয়েন্টি বুঝে উঠতে পারছি না। এখানে আমরা একটু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। এই যে চেষ্টাটা তা পরের বিশ্বকাপের জন্য করছি। ওই বিশ্বকাপের জন্য দল গোছানোর চিন্তা করছি। সেদিক থেকে এই বিশ্বকাপে কিছু বদল হবে পরীক্ষা হবে, যা হবে তা খারাপ হলেও ক্ষতি নেই। আমরা এখন যদি লম্বা পরিকল্পনা নিয়ে আগাই তাহলে ৬-৭ মাস পর ভালো কিছু হতে পারে, পরের বিশ্বকাপে ভালো করতে পারি।’