মোংলায় তলিয়ে গেছে ১৯২০ ঘের ও ৪০৪ হেক্টর জমি

লঘু ও নিম্নচাপের প্রভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে মোংলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে মোংলার বিভিন্ন এলাকার চিংড়ি ঘের।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় চিংড়ি ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চাঁদপাই, চিলা ও মিঠাখালী ইউনিয়নের ঘেরগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি পিচের রাস্তা ও বেড়িবাঁধ তলিয়ে প্লাবিত হয়েছে ৪০৪ হেক্টর জমির ১৯২০টি ঘের।

এখানে ছোটবড় মিলিয়ে ২ হাজার হেক্টর জমির উপর প্রায় সাড়ে ১০ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে।

উপজেলার কাইনমারীর অলক ফনীভুষন, কালিকাবাড়ীর অতুন বিশ্বাস, কানাইনগরের অজয় মন্ডল ও চাঁদপাই গ্রামের ঘের মালিক একরাম হোসেন বলেন, ‘ঘেরের বাঁধের উপর এখনো এক থেকে দেড় হাত পানিতে রয়েছে। ঘেরের মাছ আটকে রাখার জন্য বাঁধের উপর নেট জাল দিলেও তাও পানির চাপ ও বাতাসে ছিঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাছ বেরিয়ে গেছে।’

বেরিয়ে গেছে বেশির ভাগ বাগদা, গলদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছও।

ঘের তলিয়ে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘের ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রতি বছরই দুর্যোগ মৌসুমে এভাবে পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন এখানকার চাষিরা। তাদের দাবি, পশুর নদীর পাড়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উঁচু রাস্তার তৈরির।

উপজেলার চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম ও চিলা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, ‘এ দুইটি ইউনিয়ন পশুর নদীর পাড় ঘেঁষা। তাই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে এ এলাকার ঘের মালিকেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। সুতরাং পশুর নদীর পাড় দিয়ে বেড়িবাঁধ করা গেলে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন হাজার হাজার ঘের মালিক ও ব্যবসায়ী।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, পশুর নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় সাংসদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুনসহ বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফিজিবিলিটি স্টাডি করছেন। এ বেড়িবাঁধ মোংলার পশুর নদীর চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়ন হয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গিয়ে মিশবে। এ নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। আশা করছি পানি উন্নয়ন বোর্ড শিগগিরই ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে দ্রুত এ বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করবে।’