আলোচনাটা গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকেই। তার আগে থেকেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অফ ফর্মে। তবুও বোর্ড তার ওপর আস্থা রেখেই চলেছিল। কিন্তু রিয়াদ প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়নি টাইগারদের সাইলেন্ট কিলারকে। কয়েকদিন ধরে দলে তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাই ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে তার না থাকাটা অনুমিতই ছিল। তবে নির্বাচকরা চমক দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তকে দলে ফিরিয়ে।
শান্তর ফেরাতে যেন এশিয়া কাপের চিত্রনাট্য ফিরে এলো। টুর্নামেন্টের দল ঘোষণার দিনে হঠাৎ করেই দলে নেওয়া হলো সাব্বির রহমানকে। এরপর সোহানের চোটে জায়গা হলো ওপেনার নাঈম শেখের। এবারও যেন ঠিক তেমনই হঠাৎ দলে নেওয়া হলো নাজমুল শান্তকে।
রঙিন পোশাকের ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। এখন পর্যন্ত ৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ১৪৮ রান। সাড়ে ১৮ গড়ে স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৪.২২। নেই কোনো অর্ধশতকের ইনিংস। গত বছর ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানের ইনিংসটি তার এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ। অধিকাংশ ম্যাচে আউট হয়েছেন ক্যাচ দিয়ে। ছয় ম্যাচে ক্যাচ আউট হয়েছেন শান্ত। বাকি তিনটির মধ্যে ২ বার বোল্ড হয়েছেন। একবার অপরাজিত থাকতে পেরেছিলেন।
আগস্টে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর দল থেকে বাদ পড়েন শান্ত। ছিলেন না এশিয়া কাপের দলেও। এসময়ে বাংলাদেশ শান্তকে ছাড়া একটি সিরিজ বা টুর্নামেন্ট খেলেছে। শান্ত তাই নিজেকে প্রমাণের কোনো সুযোগই পাননি। সাকিবরা যখন দুবাইয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন দেশের মাটিতে কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টও ছিল না। তারপরও তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচকদের দাবি দল ঘোষণায় মতামত ছিল অধিনায়ক থেকে শুরু করে সবার। সেখানে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের মতও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শান্তকে সবার মতামতের ভিত্তিতেই দলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।
তিনি বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। এটা সত্য যে জাতীয় দলে সে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি। কিন্তু ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তার শতরানের ইনিংস রয়েছে। বিপিএলে তার একাধিক সেঞ্চুরি আছে। এসব বিবেচনা করেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচকদের কথার সত্যতা থাকলেও সেখানেও পরিসংখ্যান খুব একটা আহামরি নয়। ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টিতে শান্ত এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৯৫টি ম্যাচ। যেখানে ৮৯ ইনিংসে করেছেন ১ হাজার ৮৯৬। ছয়টি অর্ধশতকের সঙ্গে রয়েছে দুটি শতক। সর্বোচ্চ ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। তবে গড় মাত্র ২৩.৪০। স্ট্রাইকট রেটও খুব একটা আহামরি নয়, ১২২.১৬।
বিশ্বকাপ দল নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে আসেন টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম। তিনি শান্তকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমি মনে করি শান্ত অনেক ভালো খেলোয়াড়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় টেম্পারমেন্ট ওর আছে। আমি অল্পবিস্তর ব্যাটিং করতে দেখেছি; আমার মনে হয়েছে ওর সেই টেম্পারমেন্ট আছে। বাউন্সি উইকেটে খেলার মতো সামর্থ্য ওর রয়েছে যে হরিজন্টাল শট খেলতে পারে। তাই আমার মনে হয়, আমরা যে ইমপ্যাক্ট খুঁজছি সেটি ওর মধ্যে রয়েছে।’
জাতীয় দলের রঙিন পোশাকের বিবর্ণ শান্তর ওপর তারপরও আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এবার তার প্রতিদান দেওয়ার পালা।
অন্যদিকে দলে এবার নেই আনামুল হক বিজয় ও নাঈম শেখের নাম। এশিয়া কাপের ভরাডুবিতে হারিয়েছেন নির্বাচকদের আস্থা। তাই তাদেরকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওঠেনি তেমন আওয়াজও। তবে অনুমিত থাকা সত্বেও রিয়াদের না থাকায় প্রশ্ন আসে ঠিকই।
তার ব্যাখ্যায় মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘রিয়াদ আমাদের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র একজন ক্রিকেটার। তিনি আমাদের অনেক ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়েছেন। সেটা আমরা ভুলিনি। কিন্তু এবারের টি-টোয়েন্টির নতুন টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট আমাদের কাছে তার ভাবনা জানিয়েছেন। সে ভাবনায় তারুণ্য নির্ভর একটি টি-টোয়েন্টি দল রয়েছে। তাই বিশ্বকাপের দলে নেই আমাদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রিয়াদ।’
এদিকে দলে না রাখলেও রিয়াদকে প্রশংসার ভাসালেন শ্রীরাম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় একটা জিনিস আমাদের করতে হবে ক্রিকেট দল হিসেবে। আমার বিশ্বাস অন্য দলগুলো যেটা খুব ভালো করে, প্রতিটা ক্রিকেটারের জন্য সাকসেশন পরিকল্পনা। আমি সবসময় মাহমুদউল্লাহকে ধোনির মতো দেখি, সে দলে যে ধরনের রোল প্লে করে। সে ছয়ে ব্যাট করে, ধোনি যেমন ভারতের জন্য করে, ম্যাচ শেষ করে আসে।’