যা বলি ফলোয়াররা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে

এ সময়ে দেশের অন্যতম ব্রান্ড প্রমোটার, ফ্যাশন ব্লগার ও ফ্যাশন কনটেন্ট ক্রিয়েটর বুশরা জান্নাত কবির। তিনি সম্প্রতি অতিথি হয়ে এসেছিলেন দেশ রূপান্তরের ফেইসবুক লাইভ অনুষ্ঠানে। সেখানে খোলামেলা আলোচনা করেন তার জার্নি ও এর ভবিষ্যত নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

 

ফ্যাশন নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়ার কারণ কি?

আমি আসলে ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন সচেতন। আর ঘুরতে খুব পছন্দ করি। দেশে বা দেশের বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলেই ছোট ছোট ভিডিও করতাম, সুন্দর সুন্দর ছবি তুলতে পছন্দ করতাম। এগুলো নিজের প্রোফাইলে আপলোড করতাম। সেগুলো সবাই বেশ পছন্দ করত। তাই আমার স্বামী একদিন আমাকে বলল, এটা নিয়ে কেন সিরিয়াসলি ভাবছি না! সেখান থেকেই পাবলিক পেইজ খোলা, যদিও এরমধ্যে কোন আর্থিক চিন্তা ছিল না। কিন্তু প্রতিটি ভিডিওতে যখন সবার প্রশংসা পেতে শুরু করলাম তখন আর ছাড়তে পারিনি। নেশার মতো হয়ে গেছে।

অনলেইনের এই ফ্যাশন অঙ্গনে যাত্রা কতোদিনের?

অনলাইনের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে সাড়ে চার বছর ধরে কাজ করছি। ফ্যাশন ব্লগিংটা শুরু করেছিলাম ইন্সটাগ্রামে শর্ট ভিডিও তৈরীর মাধ্যমে। একেবারে ‘আউট অব প্যাশন’ থেকে। তখন আমি অস্ট্রেলিয়া থাকতাম। আর ব্র্যান্ড প্রমোটিং করছি দুই বছরের মতো। এর আগে আমি অস্ট্রেলিয়া ছিলাম পুরো পরিবার নিয়ে। সেখান থেকে দেশে ফিরেই এই কাজ শুরু করি।  আমি বিদেশে থাকলেও দেখেছি, অনলাইনের এমন দারুণ একটি প্ল্যাটফর্ম সেখানে তৈরী হয়নি। বাংলাদেশেই প্রথম এটি দেখেছি। আরও পরে ভারত, পাকিস্তান এমনকি কোরিয়ায় ব্র্যান্ড প্রমোটিং চালু হয়েছে।  

বর্তমানে কাদের সঙ্গে কাজ করছেন?

শুরুতে নিজেই বিভিন্ন ফ্যাশন পণ্য কিনে রিভিউ দিতাম। সেগুলো আমার ফলোয়ার খুব ট্রাস্ট করত। আর এখন তো দেশ বিদেশের ব্যান্ড থেকে তাদের পন্য আমার কাছে পাঠায়। আমি ববি ব্রাউন থেকে শুরু করে পিক্সি বিউটি, নিউট্রিজেনা, ড্যানিয়েল ওয়েলিংটনের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। আর বাংলাদেশে তো অগণিত ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। এই যে সবাই আমাকে ট্রাস্ট করে তাদের ব্র্যান্ডের সঙ্গে আমাকে যুক্ত করছে এটিই আমার সার্থকতা। আমার ফলোয়াররা খুব ভালো। তারা আমাকে ট্রাস্ট করে, আমি যা বলি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে। তাই আমি তাদের ফলোয়ার বলি না, বলি আমার সাপোর্টার্স।

এ পর্যন্ত আসার পেছনে কার কার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন?

তিন মাসের বাচ্চাসহ বাংলাদেশে বেড়াতে আসি। কোভিডের জন্য আর যেতে পারছিলাম না অস্ট্রেলিয়া। ফলে সেখানের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। ঢাকায় একটা প্রতিষ্ঠান প্রথম আমাকে তাদের কোম্পানির ব্লগিংয়ের জন্য ডেকেছিল। কিন্তু আমি আসলে চাকরি করতে চাচ্ছিলাম। তারাও আমার কাজে খুশি হয়ে আমাকে পারমানেন্ট স্টাফ হিসাবে নিয়োগ দেয়। ছয় মাস কাজও করেছিলাম। কিন্তু আমি ব্লগিংটা নিয়ে পুরোটা কাজ করতে চাচ্ছিলাম। কারণ  অনেক জায়গা থেকে অফার আসছিল। তখন চাকরিটা ছেড়ে দিই। এরপর ব্র্যান্ড প্রমোশনেরও প্রস্তাব আসতে থাকে। এই ব্যাপারে আমার একটু অনিহা থাকলেও মা আমাকে উৎসাহ দেন। প্রথম লাইভ থেকেই ভালো সাড়া পাই । আমার মা আর স্বামীই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

আপনার মতো ব্র্যান্ড প্রমোটিং কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ভবিষ্যত কী হবে, কখনো ভেবেছেন?

আসলে এটা একটা প্ল্যাটফর্ম। আপনি যখন নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে ফেলবেন, ততদিনে আপনি কিন্তু আপনার ক্রিয়েটিভিটি দেখিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকের মন জয় করেছেন । ব্র্যান্ড প্রমোটিং-এর ফিউচার কি হবে আমরা কিন্তু জানি না। আপনি যদি ব্র্যান্ড প্রমোটিংয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘকাল ধরে না রাখতেও পারেন, তাতে কোন অসুবিধা নেই। মানুষ যেহেতু আপনাকে চিনেছে, জেনেছে, আপনাকে ভালোবেসেছে সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আপনি অন্যান্য নানা মাধ্যমে কাজ করতে পারবেন।  একজন ইনফ্লুয়েন্সার এতোদিনে যে অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করেছে তা দিয়ে নানা ধরনের বিজনেস শুরু করতে পারে। তাছাড়া যারা এখন ব্র্যান্ড প্রমোটিং করছেন বা যারা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার- তাদের প্রত্যেকের কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। আর ইউটিউব তো একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম। এটি থেকে মানুষ অনেক আগে থেকে আয় করছে। সেখানেও আমরা কাজ করতে পারি। এছাড়া কথা বলার ভঙ্গি, মানুষের সঙ্গে কমিউনিকেশন করা, জড়তা কেটে যাওয়ার ফলে চাইলে কেউ উপস্থাপনা পেশায়ও যেতে পারেন। আপনার মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস চলে আসে, এর ফলে নানা পেশায় ভালো করা যায়। সবমিলিয়ে বলতে পারি, এই সেক্টরের মানুষের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল।