শান্তিরক্ষা মিশন দেখা দায়িত্ব মনে করছে সংসদীয় কমিটি

সরকার বিদেশে ভ্রমণকে এ মুহূর্তে নিরুৎসাহিত করলেও শান্তিরক্ষা মিশনগুলো ঘুরে দেখা নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। করোনার আগে সেনাবাহিনীর টাকায় কঙ্গো ভ্রমণ করলেও এখন তারা কুয়েত, দুক্ষিণ সুদান ও লেবানন ঘুরে আসতে চান। এ দাবি তাদের আগের হলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু এখন এসব দেশে ভ্রমণ করতে তোড়জোড় শুরু করছে কমিটি। এমনকি সুপারিশও করেছে। আর সেই সুপারিশের সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ২০তম বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে বৈঠকের কার্যবিবরণী গৃহীত হয়।

এর আগের বৈঠকে কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিদেশে বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় কমিটি বিদেশে বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করলে তাদের সুযোগ, সুবিধা এবং সমস্যা নির্ধারণ করা সহজ হবে। পরিদর্শনের ক্ষেত্রে শুধু জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি কমিটিকে বলেন, ‘কুয়েতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্য কাজ করছেন। কুয়েত পুনর্গঠন (ওকেপি) এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেখতে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা হাজার হাজার মাইল দূরে বিশে^র বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছেন।’

সভাপতির জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে কুয়েত ওকেপিতে সশস্ত্র বাহিনীর ৫ হাজার ৬৫ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন।

সভাপতি বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা না গিয়ে থাকলে সেখানে আমাদের যাওয়া উচিত।’ কুয়েত ওকেপি সরেজমিন পরিদর্শনের প্রস্তাবের বিষয়ে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তিনি একমত পোষণ করেন।

এর আগে কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কমিটির সপ্তম বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্র্তৃক কুয়েত পুনর্গঠন কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনের সুপারিশ করা হয়। পরিদর্শনের জন্য প্রথমে কুয়েত, এরপর যথাক্রমে দক্ষিণ সুদান ও লেবাননের নাম প্রস্তাব করা হয়।

তিনি জানান, কমিটি কোন দেশের মিশন পরিদর্শন করবে, সেটি সংসদীয় কমিটি নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু এবারের পরিদর্শনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ কর্র্তৃক আনমিস (দক্ষিণ সুদান) মিশন পরিদর্শনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রতিনিধিদলের নাম চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মনুস্কো (ডিআর কঙ্গো) শান্তিরক্ষা মিশন পরিদর্শন করেছিল। ওই সফরে কমিটির সভাপতিসহ পাঁচজন সদস্য এবং সাচিবিক সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দুজন কর্মকর্তা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের ব্যয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহন করেছিল। তিনি প্রথমে কুয়েত ওকেপি পরিদর্শনের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন এবং কঙ্গো সফরের মতো এবারের পরিদর্শনে প্রতিনিধিদল গঠনের ব্যাপারে সভাপতির নির্দেশনা কামনা করেন।