সীমান্তে সংঘাতের পর প্রথম মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি-শি

লাদাখে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রথম মুখোমুখি হতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানের রাজধানী সমরখন্দে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজশেন’ (এসসিও)- এর সম্মেলনে দুই নেতা মুখোমুখি হবেন।

সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও মোদি দেখা করবেন। সম্মেলনে যোগ দিতে মোদি বৃহস্পতিবারই (১৫ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এক বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে তিনি সমসাময়িক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়, এসসিওর সম্প্রসারণ, সংস্থার বহুমুখীকরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরো নিবিড় করা নিয়ে মত বিনিময়ের অপেক্ষায় আছেন। সম্মেলনে বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিষয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার পর প্রত্যন্ত পশ্চিম হিমালয়ে চীন-ভারত সীমান্তের একটি বিতর্কিত এলাকা থেকে এ সপ্তাহেই দুই দেশের সেনারা নিজ নিজ চৌকিতে ফিরে গেছে। ওই অচলাবস্থার পর থেকে এতদিন মোদি ও শি একে অপরের সঙ্গে কথা বলেননি। সীমান্ত থেকে সেনাদের পিছু হটার পরই এবার উজবেকিস্তানের সমরখন্দে মুখোমুখি হতে চলেছেন ভারত ও চীনের এই দুই সরকার প্রধান।

এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা বলেছেন, শুক্রবার এসসিওর সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে মোদীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কিনা সেটি নিশ্চিত করে বলেননি কোয়াত্রা। অন্যদিকে, চীনও মোদির সঙ্গে শি’র বৈঠক হবে কিনা সেটি নিশ্চিত করে জানায়নি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংগঠন এসসিও’র স্থায়ী সদস্যদেশগুলো হচ্ছে- চীন, ভারত, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং পাকিস্তান।

অন্যদিকে, শি-মোদি বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও উজবেকিস্তানের এসসিও সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে ক্রেমলিন এরই মধ্যে নিশ্চিত করে জানিয়েছে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়ার সার বিক্রি এবং পারস্পরিক খাদ্য সরবরাহ নিয়ে দুই নেতা কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।