বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আপনারা যে কোনো মুহুর্তে আওয়ামী লীগের মৃত্যুর খবর পাবেন। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই দখলবাজ, স্বৈরাচার ও অবৈধ সরকারকে তারা উৎখাত করবে।’
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-৬ জোনের উদ্যোগে ধোলাইখাল কাজী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও ভোলায় আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নিতে জুমার নামাজের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেন নেতা-কর্মীরা।
পুলিশের সমালোচনা করে আমীর খসরু বলেন, ‘যারা বাংলাদেশে আওয়ামী পুলিশের ভূমিকা পালন করছেন তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই বাংলাদেশের সংবিধানে আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের জীবনের সুরক্ষা দেওয়া। বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু আপনারা যারা আওয়ামী পুলিশ বাহিনী হওয়ার চেষ্টা করছেন অথবা হয়ে গেছেন তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা, আপনারা যদি সেই পথে যান সেটা শুধু বাংলাদেশের সংবিধান, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র লঙ্ঘন নয় এটা আন্তর্জাতিক ক্রাইমের আওতায় পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে-বিদেশে পুলিশ সদস্যদের সকলে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কেউ রেহাই পাবেন না। অনেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তো এখন পালিয়ে গিয়ে আর রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন পালিয়ে গেছে কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়ার আগে চারদিকে খবর নিতে হয় কোনো বাংলাদেশি সেখানে জমায়েত হয়েছে কি না। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে, জানাজায় গিয়ে লাঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বিদেশে গিয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না। সুতরাং যদি মনে করেন পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পাবেন সেটা একেবারে ভুল ধারণা।’
পুলিশের উদ্দেশে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক আরো বলেন, ‘দেশের সংবিধান ও মানবাধিকার লক্সঘন এবং গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য আপনাদের এ দেশে বিচার হবে। আপনারা কোনো বিচার থেকে রেহাই পাবেন না।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির প্রথম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনু ও উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।