দুয়ারে কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন এই ধর্মীয় উৎসব ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। কে কত দর্শনীয়-কারুকার্যমণ্ডিত প্রতিমা তৈরি করে ভক্তদের হৃদয় ছুঁতে পারেন, এরই প্রতিযোগিতা চলছে এখন মণ্ডপে মণ্ডপে। নিজ নিজ পূজা কমিটির সামর্থ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ও অন্য জেলা থেকে স্বনামধন্য কারিগর এনে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার ২ হাজার ৩২৪টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সদরঘাট কালীবাড়ি, বোস গলিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা শিল্পীরা ছোট-বড় শত শত প্রতিমায় রং-তুলি দিয়ে রং করায় ব্যস্ত। আবার অনেক শিল্পী আগে অর্ডার নেওয়া প্রতিমাগুলোর কাজ শেষে হস্তান্তর করছেন। প্রতিমাশিল্পী পরিতোষ পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বেড়েছে। গতবার করোনার প্রভাব থাকায় প্রতিমার কাজও কম ছিল। তবে এবার করোনার প্রকোপ কমায় চাপ বেড়েছে। অনেক পূজা কমিটি এবার আগেভাগে প্রতিমা তৈরির অর্ডার করে গেছে। এবার আমরা ছোট-বড় ৫০টির মতো প্রতিমার অর্ডার পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিমাগুলোতে মাটির কাজ শেষ। এখন চলছে রঙের কাজ। রং-তুলি দিয়ে প্রতিমা সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলছি। রং-তুলির পাশাপাশি স্প্রের মাধ্যমে প্রতিমায় রং করছি। যাতে রঙের মান ও স্থায়িত্ব ভালো হয়। এখন অর্ডার নেওয়া প্রতিমাগুলো পর্যায়ক্রমে বুঝিয়ে দেব।’
করোনা পরিস্থিতিতে গত দুই বছর প্রতিমা তৈরির কাজ তেমন একটা পাননি বলে জানান লোকনাথ শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী মৃৎশিল্পী অমল পাল। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর করোনার কারণে অনেকে পূজা দিতে পারেনি বা দিলেও ছোট প্রতিমা দিয়ে পূজা দিয়েছে। এবার আমাদের কাছে বেশ কয়েকটি বড় প্রতিমার কাজ এসেছে। আমরা প্রায় সবগুলোর মাটির কাজ শেষ করেছি। এখন রং করা হচ্ছে। পূজার আগেই সব প্রতিমা আমরা ভক্তদের বুঝিয়ে দেব।’
এ বছর শিল্পীরা প্রতিমার জন্য আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে দাম বেশি নিচ্ছেন বলে জানান হাটহাজারী থেকে সদরঘাট কালীবাড়িতে প্রতিমার অর্ডার দিতে আসা কানন দে। তিনি বলেন, ‘মাঝারি সাইজের প্রতিমা অর্ডার দিয়েছি। কিন্তু এবার তুলনামূলকভাবে একটু দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে প্রতিমাশিল্পীরা জানাচ্ছেন, করোনার কারণে নাকি অনেক কারিগর পেশা বদল করে ফেলেছেন। তাই কারিগর সংকট। তা ছাড়া যেসব কারিগর আছেন; তাদের নাকি বেশি বেতন দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে প্রতিমার অর্ডারে এখন ২০-২৫ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।’
এবার চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় মোট ২ হাজার ৩২৪টি প্রতিমা ও ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত। তিনি বলেন, ‘আসন্ন দুর্গাপূজা সুচারুরূপে সম্পাদনে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় সভা হয়েছে। প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ পূজাম-প কমিটি ও পূজা উদযাপন পরিষদকেও বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।’
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় নিñিদ্র নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার
কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য সাদাপোশাকে পুলিশ নিয়োগের পাশাপাশি চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও মনিটরিং করা হবে।’