‘বন্ধু’কে বিদায় জানাতে চান হাসান মাহমুদ

হালকা পাতলা গড়নের মৃদুভাষী এই তরুণকে দেখে বোঝার উপায় নেই, একটা কাঠের গোলা হাতে পেলেই ২২ গজে ঝরাতে পারেন আগুন। ২২ বছরের হাসান মাহমুদের মাঝে পাওয়া গিয়েছিল এমনই এক গতি তারকার খোঁজ। কিন্তু বাদ সাধে পেসারদের ‘পরম বন্ধু’ ইনজুরি। চোটের সঙ্গে মিতালিতেই বছর দুয়েক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটিয়ে দেওয়ার পরও ম্যাচসংখ্যা মাত্র আট। ছোট্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন কোনো বিশ্বকাপে, তাতে চমকে যাননি বরং আত্মবিশ্বাসটা ছিল ১৫ জনে জায়গা করে নেওয়ার। তবে একই সঙ্গে হাসানের মনের কোণে আছে ছোট্ট আশংকাও। চোটের সঙ্গে যে নিত্য সখ্য, তাতে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অক্ষত থাকবেন তো!

জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ফিরে এশিয়া কাপের জন্য অনুশীলনের সময় গোড়ালিতে চোট পান হাসান। তাতে এশিয়া কাপে বনে যেতে হয় দর্শক। বৃষ্টির বাগড়ায় টি-টোয়েন্টির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর শ্রীধরন শ্রীরামের ক্যাম্পই হয়েছে মোটে একদিন, তাতেই বোধহয় এই পেসার নজর কেড়েছেন। নইলে বেশ কিছুদিন ধরেই তিন সংস্করণেই জাতীয় দলে খেলা বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের বদলে হাসানের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়াটা খানিকটা অপ্রত্যাশিতই। বিশেষ করে হাসানের ক্যারিয়ারটাই যেখানে মাত্র তিন টি-টোয়েন্টির। তাও আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০২০ সালে অভিষেকের পর এবারের সফরে খেলেছেন বাকি দুটো। যদিও হাসান জানালেন, জিম্বাবুয়ে সফরের দুটো ম্যাচই তাকে সাহস জুগিয়েছিল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার, ‘না আমার সর্বশেষ যে পারফরম্যান্স দেখেছিলেন জিম্বাবুয়েতে, তাতে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে ওটাকে ধরেই হয়ত আমি

থাকতে পারব (দলে) ইনশাআল্লাহ। তাই হয়েছে’ গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

দলে তো তিনি ছিলেন এশিয়া কাপেও, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোট তাকে উঠতে দেয়নি দুবাই বিমানে। বিশ্বকাপ দলে থাকলেও আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটো ম্যাচ আর নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ, অক্টোবরের ২৪ তারিখে বেলেরিভ ওভাল মাঠে নামার আগ পর্যন্ত নিজেকে অক্ষত রাখতে পারবেন কি হাসান? ‘ফাস্ট বোলারদের জন্য চোট আসলে একটা বন্ধুর মতো, আসে আর চলে যায়...। তবে এটাও তো ঠিক যে কাজ করার মধ্যেই থাকতে হবে। নিয়মিত কাজে থাকলে হয়তো এই জিনিসটা হবে না’ বলছিলেন হাসান। বিশ্বকাপের আগে তাই ‘বন্ধু’কে বিদায় বলে দিতে চান  হাসান, শরীরকে সময় দিচ্ছেন সেরে ওঠার। গোড়ালির চোট, তাই বোলিংটা এখনো শুরু করেননি ‘এখন অবশ্য পায়ের পাতার চোটে বলই হাতে নেইনি। ১৯ তারিখে বোলিং করব ইনশাল্লাহ।’

আরব আমিরাত, নিউজিল্যান্ড তারপর অস্ট্রেলিয়া গন্তব্য বাংলাদেশ দলের। তিন দেশের তিন কন্ডিশন, হাসান বলছেন ভালো করতে হবে সব জায়গাতেই, ‘আমাকে বোলিং দিলে হয়তো শুরুতে দুটা ওভার দিবে আর আবার ডেথ ওভারে আনবে। যেখানেই বোলিং করি, দলে আমার যে ভূমিকা সেটা পালন করতেই চেষ্টা করব।’ শেষ দিকের ওভারগুলোতে খেই হারিয়ে খরুচে হয়ে যাওয়ার পুরনো অভ্যাস আছে বাংলাদেশের। এ ব্যাপারটা যাতে না ঘটে তাকে মনের জোর বাড়াতে হবে বলে মনে করেন হাসান, ‘ফাস্ট বোলারদের একটা আলাদা দক্ষতাই থাকে ডেথ ওভারে বল করার জন্য। সবার এমন আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে যে আমরা পারব। যখন চাপের সময় আসে তখন হয়তো আমরা ভেঙে পড়ি, আমাদের প্রধান দক্ষতাটা ভুলে যাই। (যেটা পারি) ওই জিনিসটা নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে, যেকোনো পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে হবে। সেটা আমাদের শিখতে হবে।’

ক্যারিয়ারের প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফারাক দুই বছরের। বাজে ফর্ম নয়, এজন্য দায়ী সেই পুরনো বন্ধু, যে পিছু ছাড়ছেই না। বন্ধুরূপী চোটকে দূরে সরাতে লেটেস্ট মডেলের রেসিং বাইকটাও বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন এই পেসার, তাতেও যদি পূরণ হয় বিশ্বকাপ স্বপ্নটা। কারণ টাটকা অভিজ্ঞতা থেকেই তো জানেন, দলে নাম থাকা আর মাঠে নামতে পারার ব্যবধানটা কত বড়।