শুধু চীনের পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলে মিয়ানমার সমস্ত বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
তিনি বলেন, ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিসের মতো উন্নত দেশ দুই, চার, দশ হাজার মানুষ আশ্রয় দিতে চায় না। অথচ আমাদের দেশে ১১-১২ লাখ মানুষ চলে এসেছে এবং আরো বাড়ছে। উন্নত বিশ্বের এ ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখছি না। তাহলে কি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে শুধু চীনের পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলেই মিয়ানমার সমস্ত বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে।
রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ সিনেট ভবনে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার বৈশ্বিক ভাবমূর্তি: প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
সিটি মেয়র বলেন, মিয়ানমার আমাদের একটার পর একটা উসকানি দিয়েই যাচ্ছে। গোলা এসে পড়ছে বাংলাদেশের মাটিতে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। এখন আমার প্রশ্ন, এখানে মিয়ানমার কি আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চায়? না আমাদের উসকানি দিচ্ছে যাতে আমরা যুদ্ধ করতে বাধ্য হই। না এর পেছনে আরো কোনো পরাশক্তির ইন্ধন আছে? যারা বাংলাদেশের সরকারকে অস্থির করতে চায়, ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় বা অসাংবিধানিকভাবে এ দেশে কিছু একটা করতে চায়। তা ছাড়া এত সাহস তো মিয়ানমারের হওয়ার কথা নয়। যে সারা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের পর দিন কাজগুলি করবে।
তিনি আরো বলেন, তাই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষকে পরীক্ষিত বন্ধু, যারা এখন পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে; সে সমস্ত পরীক্ষিত বন্ধুদের মধ্যে যারা বৃহৎ রাষ্ট্র, ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আছে তাদের সাহায্য নিতে হবে। যেমন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। তাদের দিয়ে এই বিষয়টির সুরাহা করতে হবে।
রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকার বাইরে আমাদের প্রথম সভা। আজ আমরা যে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি তা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এত সহজ বিষয় না। এর মধ্যে অনেক বিষয় নিহিত। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্প্রদায় কী করতে পারে, কী পথ দেখাতে পারে তা আমাদের জানা দরকার।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, যে দেশ সামরিক জান্তা দ্বারা পরিচালিত এবং যে দেশে ইয়াবা উৎপাদিত হয় সে দেশ থেকে আমরা কী আশা করতে পারি? আজকে যে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তির কথা আসছে সেটা আগেই প্রমাণিত হয়েছে বিশ্ব নেতাদের কাছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বাঙালি স্বভাবতই পরোপকারী। তারা নিজে না খেয়ে হলেও অন্যকে খাওয়ায়। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার সেই পরিচয় দিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ নিয়ে বক্তব্য দেন গবেষক ও কলাম লেখক ব্রি. জে. (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দীন। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শাহ আজম শান্তন, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম প্রমুখ।